যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টিকে প্রত্যাখ্যানের বার্তা দিলেন।
এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও আসছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা আটকে দেওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা পাবে দলটি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্ক ও ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনে। কারণ এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি মানুষের অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
নির্বাচনের ফল নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তোলার ইতিহাস থাকলেও এবার সমঝোতার সুরে কথা বলেছেন ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই এসব ফল মেনে নিতে প্রস্তুত।’ পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ‘কাজ করার’ প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তবে কয়েক মিনিট পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের আইন পাসের উদ্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করবেন, সেই ইঙ্গিতও দেন ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প। সেখানে তিনি ‘ভেটো’ লেখা একটি লাল বেসবল ক্যাপের ছবি পোস্ট করেন।
সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের নির্ণায়ক সাফল্য আসে কানসাস ও আইওয়ায়। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা পঞ্চম ও ষষ্ঠ আসন হিসেবে এ দুটিতেও জয় পায় ডেমোক্র্যাটরা। সপ্তম আসন হিসেবে মেইনেও সুসান কলিনসকে হারিয়ে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি দখল করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন।
কানসাসে মেথডিস্ট ধর্মযাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান বর্তমান সেনেটর রজার মার্শালকে হারান। রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত এই অঙ্গরাজ্য থেকে ১৯৩২ সালের পর তিনিই প্রথম ডেমোক্র্যাট সেনেটর নির্বাচিত হলেন।
২০০৮ সালের পর আর কোনো ডেমোক্র্যাট সেনেটর পায়নি আইওয়া। রিপাবলিকান অ্যাশলে হিনসনকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আসনটি এনে দিয়েছেন জশ টুরেক। দলটির এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘ব্লু ওয়েভ’ বা নীল ঢেউ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
এর আগে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে জয় পায় ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প সমর্থকদের এক করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালালেও এসব অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেন।
টেক্সাসের ফল ছিল রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বিস্ময়। ট্রাম্প-সমর্থিত সেনেট প্রার্থী অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে দেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো। ১৯৯৪ সালের পর টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট সেনেটর হলেন টালারিকো।
একইসঙ্গে বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে নির্বাচিত হন জিনা হিনোজা। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির শীর্ষ পদে কয়েক দশকের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণের অবসান হলো।
সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৯৯৮ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে সেনেটর হয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার বোন ডারলিন গ্রাহামকে ওই আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনে ডারলিনকে হারিয়ে অ্যান্ড্রুজের এই জয়কে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট সেনেটর হয়েছেন রয় কুপার ও শ্যারড ব্রাউন। তারা হারিয়েছেন রিপাবলিকান মাইকেল হোয়েটলি ও জন হাসটেডকে।
নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেনেট আসনও ধরে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে জর্জিয়ায় জন অসফের ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপ্পাসের আসন দুটিও রয়েছে।
সেনেটের ১০০টির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন। এর আগে সেনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল ৫৩-৪৭ ব্যবধানে। কয়েকটির ফল এখনো অমীমাংসিত থাকলেও সাতটি আসন বেড়ে যাওয়ায় সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতেই যাচ্ছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে ২৭টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ৪৩৫টির মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে ২২৪টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ২১৮টি আসন।
