টেস্টে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে অভিজ্ঞ নাম তাইজুল ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনার দলের সবচেয়ে বেশি টেস্ট উইকেটেরও মালিক। তবে কদিন ধরেই তিনি যেন বেশ অচেনা, ধারহীন। তাইজুল প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য সহায় কন্ডিশনেও হুমকি হতে পারছেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মিরপুর টেস্টে বড় হারের পর তাইজুলের ছন্দহীনতা এসেছে বড় করে আলোচনায়। এটা যে দলের জন্য অনেক বড় উদ্বেগের, তা স্বীকার করলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও।
টেস্টে সর্বশেষ ৭ ইনিংসে তাইজুলের শিকার স্রেফ ৫ উইকেট। এই সময়ে তিন ইনিংসে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ উইকেট (১৪০ রানে ৭) পেয়েছিলেন, যদিও সেই টেস্ট ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিলো বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে স্পিনারদের জন্য কিছুটা রসদ ছিলো। সেখানে মেহেদী হাসান মিরাজ ভালো করলেও তাইজুল প্রভাব ফেলতে পারেননি। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চরম হতাশ করেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬৯ ওভার বল করে পেয়েছেন স্রেফ ১ উইকেট! ১৪০ ওভার বল করেও আফগানদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।
সিলেটে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে এলো তাইজুল প্রসঙ্গ। সেখানে উদ্বেগের জায়গা একদম আড়াল করেননি সিমন্স, ‘এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় কারণ তিনি আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার। তাই উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি নিশ্চিত এটা তার নিজের জন্যও উদ্বেগের। যখন আপনি তার সঙ্গে আলোচনা করবেন, তখন বুঝতে পারবেন তার নিজের এবং দলের উভয়ের জন্যই সমান উদ্বেগের বিষয়, কারণ তিনি আমাদের এই দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।’
সংবাদ সম্মেলনে তাইজুলের কাঁধের চোটের গুঞ্জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পর টেনডন ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এই বিষয়ে কোচ সিমন্স স্পষ্টভাবে জানান, ‘এ ব্যাপারে আপনাকে মেডিক্যাল স্টাফদের জিজ্ঞাসা করতে হবে। আমি জানি ইউএইতে তার কিছুটা সমস্যা ছিল। কিন্তু তারপর থেকে সে দারুণ থ্রো করছে, পুরোদমে বোলিং করছে এবং গতকালও অনুশীলনে পুরোদমে বল করেছে। তাই মনে হচ্ছে না যে এটি তাকে কোনোভাবে প্রভাবিত করছে।’
বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে যদি তাইজুল জায়গা হারান, তাহলে অবাক হওয়ার থাকবে না।
