সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এ বিষয়ে অনুমোদন পেতে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশনও আহ্বান করেছিলেন তিনি।
তবে প্রেসিডেন্টের এ প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণ স্থগিত করে সময় বাড়িয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট।
আজ রোববার দেশটির দুই আইনপ্রণেতার বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম খোলেইফ এএফপিকে বলেন, ‘সব আইনপ্রণেতাকে কথা বলার এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে অধিবেশনের সময় বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি জানান, অধিকাংশ আইনপ্রণেতাই এই উদ্যোগের পক্ষে।
আরেক আইনপ্রণেতা মাহা আবদেল নাসের বলেন, ‘সব আইনপ্রণেতার বক্তব্য শোনার সুযোগ দিতে সোমবারও অধিবেশন চলবে।’
তবে সৌদি আরবকে মিসর কী ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে পারে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওই দুই আইনপ্রণেতা।
মিসরের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতে পারে।
এ বছরের অক্টোবরের শুরু থেকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা প্রায় প্রতিদিনই সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ আগস্ট তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব—এই তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট’ চুক্তিতে সই করে।
এ অবস্থায় সৌদি আরবকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে সিসি বলেন, ‘আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’
‘সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা পেলে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে মিসর। এ ক্ষেত্রে আক্রমণ নয়, শুধু প্রতিরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
মিসরের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের বাইরে কোনো সামরিক অভিযানে সেনা মোতায়েনের আগে পার্লামেন্ট ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের অনুমোদন মিলেছে।
