দেড় দশকেরও বেশি সময় পর এবার সম্ভবত প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফেভারিটের তকমা নিয়ে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট হওয়ায় শিরোপা জয়ের জোরালো স্বপ্নও দেখছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এর আগে ২০১৮ সালে শেষবার বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছিল। সেবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের সবচেয়ে বাজে সময় পার করছিল জাতীয় দল। ফলে প্রত্যাশাও ছিল সীমিত। শেষ পর্যন্ত প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়াটা খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিল না।
তবে এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। ভারতের মাটিতে সবশেষ ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে শেষ চারে খেলার দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। সেই সাফল্যের পর এবার দল আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে শেফিল্ড ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীসহ বিদেশে বেড়ে ওঠা বেশ কয়েকজন ফুটবলারের অন্তর্ভুক্তি স্বাগতিকদের নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
যদিও সম্প্রতি ফিফা আসিয়ান কাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে তিন ম্যাচের সবকটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারও হজম করতে হয়েছে আমেরিকান কোচ টমাস ডুলির শিষ্যদের। তবে সেই হতাশা পেছনে ফেলে সাফে ২৩ বছরের শিরোপাখরা কাটাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের সামনে সেই সুযোগও এসেছে ঘরের মাঠে, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! এবারের প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দলকেই আর ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
সাফের উদ্বোধনী দিনে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১০ ধাপ পিছিয়ে থাকা হিমালয়ের দেশটি প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংধারী দল। এই ম্যাচে জয় পেলে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে লাল-সবুজরা।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণের নাম। তিনি মনে করেন, শিরোপা জয়ের জন্য এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর আসবে না।
তপু বলেন, ‘রক্ষণভাগ থেকে আমি পুরো দলের সঙ্গে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমার মনে হয়, নিজেদের মাঠে এর চেয়ে ভালো সময় আমরা আর পাব না। আমাদের দলটা এখন অনেক আলাদা। সবাই যদি ঐক্যবদ্ধভাবে পারফর্ম করতে পারি এবং দল হিসেবে খেলতে পারি, তাহলে আমাদের সম্ভাবনা অনেক বেশি।’
ভুটানের বিপক্ষে স্বাগতিকদের অতীত রেকর্ডও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ঘরের মাঠে কিংবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে কখনোই ভুটানের কাছে হারেনি বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি পরাজয়ই এসেছে থিম্পুতে।
বাংলাদেশের মতো ভুটানও সাফের আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। তবে বাংলাদেশ গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিলেও ভুটান সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে গত জুনে। তাই প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন দলটির কোচ গ্যারি ফিলিপস।
অস্ট্রেলিয়ান এই কোচ বলেন, ‘প্রস্তুতি ছাড়া যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলাই খুব কঠিন। আর স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেললে সবার ওপরই বাড়তি চাপ থাকে। তবে এটি এএফসি বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের কোনো প্রতিযোগিতা নয়। বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একে অপরের বিপক্ষে খেলার একটি সুযোগ।’
