শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে শুরু হয় মানুষের কর্মব্যস্ততা। মাটির চুলায় বসানো হাঁড়ি থেকে ওঠে গরম ভাপ। ছড়ায় চালের গুঁড়ার মিষ্টি ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর মন্ডল মোড়ে ভিড় করেন পিঠাপ্রেমীরা।
তবে বেলি বেগম ও তার স্বামী আয়বেলীর কাছে এই আয়োজন শুধু শীতের আমেজ নয়। পিঠা বিক্রিই তাদের সারা বছরের সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন।
ভোর হওয়ার আগেই ঘুম ভাঙে এই দম্পতির। সরিষাবাড়ী পৌরসভার মন্ডল মোড়ে ভোর ৫টা-৯টা পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি। কিছুটা বিরতি দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা-রাত ৯টা পর্যন্ত আবারও বসেন তারা। ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রি করেই কাটে তাদের শীতের দিনগুলো।
বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় শীতের কয়েক মাসের উপার্জনের ওপরই নির্ভর করতে হয় এই দম্পতিকে। বছরে তিন-চার মাস পিঠা বিক্রি করে যে টাকা জমে, তা দিয়েই বাকি সময়ের সংসার খরচ চালান তারা।
বেলি বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শীত এলে আমাদের আয়ের একটা ব্যবস্থা হয়। আগে দিনে পাঁচ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় তিন হাজার টাকা থাকতো। এখন একই পরিমাণ বিক্রি করেও থাকে দুই হাজার টাকার মতো। চালের দাম বেড়েছে। কিন্তু পিঠার দাম ১০ টাকার বেশি রাখা যায় না।’
‘আয় কিছুটা কমলেও পিঠা বিক্রি করে আমরা সন্তুষ্ট। কারণ বছরের অন্য সময়ে আমাদের তেমন কোনো আয় থাকে না’, বলেন তিনি।
আয়েবেলী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বছরে তিন-চার মাস পিঠা বিক্রি করতে পারি। এই সময়ের আয় দিয়েই সারা বছর চলতে হয়।’
তাদের ক্রেতা আমিনুর রহমান টিটু বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকালে পিঠা খাই। এখানকার পিঠার স্বাদ আলাদা। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও বজায় রাখা হয়।’
আরেক ক্রেতা নির্মলেন্দু রাজন ঘোষ বলেন, ‘বেলি আপা খুব ভালো পিঠা বানান। আমি প্রায়ই এখান থেকে পিঠা কিনি। তবে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় অনেক সময় পিঠা পেতে বেশ দেরি হয়।’
