আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে নেমে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেই জেঁকে বসে হতাশা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের তোপে ১৮৪ রানে নেই ৭ উইকেট। চোট পাওয়া ওপেনার সাদমান ইসলাম আর নামতে না পারায় আসলে ৮ উইকেট ছিল না বাংলাদেশের।
সেই বিপর্যয়ের মাঝে ব্যাট হাতে জেগে ওঠেন একজন— স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে বুক চিতিয়ে একাই লড়াই করেন তাওহিদ হৃদয়। মিরপুরে অনুষ্ঠিত আগের টেস্টের দুই ইনিংসেই উইকেট ছুড়ে দেওয়ার বিভীষিকা পেছনে ফেলে এই তরুণ ব্যাটার খেলেন মহাকাব্যিক এক ইনিংস। তার অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদে উল্টো লিড নিয়ে সিলেট টেস্টে লড়াইয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ দল।
শনিবারের খেলা শেষে ২৩ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। হৃদয়ের রেকর্ডময় ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর প্রথম ইনিংসে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রান তোলে তারা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ ওভারে বিনা উইকেটে করেছে ৭ রান। তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ৩৫৬ রানে।
চাপের মধ্যে থাকা হৃদয় সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দিয়ে অপরাজিত থাকেন ২৪২ রানে। তার ৩৫৯ বলের অবিস্মরণীয় ইনিংসে চার ২২টি ও ছক্কা ১১টি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করা এই ডানহাতি এখন এই সংস্করণে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক।
দলের বাকি স্বীকৃত ব্যাটাররা ভুগলেও হৃদয় দেখান তাড়না ও নিবেদন। ব্যাটিংয়ের সহায়ক পরিবেশ পেয়ে রান আনতে থাকেন অনায়াসে। সঙ্গে বিনোদনদায়ী শটের ফুলঝুরি তো ছিলই। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১৬৭ বলে ১১৭ এবং নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ১২১ বলে ৮৫ রানের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দুটি জুটি গড়েন তিনি।
অথচ একসময় মনে হচ্ছিল, বড় লিড পেতে যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু হৃদয় সেই চিন্তাকে নস্যাৎ করে নিজের সেরাটা মেলে ধরায় বদলে যায় পরিস্থিতি। টেলএন্ডারদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জ্বলে ওঠায় ক্যারিবিয়ান বোলারদের পরিকল্পনা হয়ে পড়ে এলোমেলো। এদিন বাংলাদেশ যোগ করে আরও ২৯৮ রান, যার ২১৩ রানই আসে তার ব্যাট থেকে।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের মোট রানের ৬২.৬৯ শতাংশই হৃদয়ের অবদান। ৭৬ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান আসে চোট কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। বিশের ঘরে যেতে পারেন আর কেবল তাইজুল (৫৬ বলে ২২ রান)। বাকি সাতজনই আটকে যান ১৮ রানের নিচে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফের ব্যাটিংয়ে নামার পর পেসার তাসকিনের করা প্রথম ওভারেই দুটি রিভিউ হারায় বাংলাদেশ। আর মাত্র একটি রিভিউ বাকি আছে তাদের। ১৩ বলে একটি চারে ৫ রানে অপরাজিত আছেন ব্র্যান্ডন কিং। ১১ বলে ২ রানে খেলছেন জশুয়া ডা সিলভা।
