Homeস্পোর্টসহৃদয়ের রেকর্ড ইনিংসের পরও সিলেটে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

হৃদয়ের রেকর্ড ইনিংসের পরও সিলেটে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

তাওহিদ হৃদয়ের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বপ্নের রং ফিকে হতে সময় লাগল মাত্র একটি দিন। ব্যাট হাতে এবার বাংলাদেশের বোলারদের শাসন করলেন কাভেম হজ ও কেভিন উইকহ্যাম। তাদের দাপটে তৃতীয় দিনের শেষে কিছুটা এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শেষ করেছে উল্টো বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে। এমন পরিস্থিতিতে শেষ দিনে জয় তো বটেই, ম্যাচ বাঁচানোও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকদের জন্য।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার চতুর্থ দিনে ৭৯ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান যোগ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থাকা ক্যারিবীয়রা এখন এগিয়ে ৩১৫ রানে। ১৪০ রানে অপরাজিত আছেন হজ। তার সঙ্গে ২০ রানে ব্যাট করছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু।

আগের দিন হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের সৌজন্যে ৩৮৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রান পেরিয়ে পেয়েছিল ৩০ রানের লিড। এরপর দিনের শেষভাগে ৪ ওভার ব্যাট করে ৭ রান তুলেছিল সফরকারীরা। ফলে চতুর্থ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলা। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা।

দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা। দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে দ্রুতই প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অবশেষে ৩৬ রান করা ডা সিলভাকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাইজুল ইসলাম। এরপর ৬১ রানে থাকা কিংকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে স্লিপে ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মধ্যাহ্নবিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১২৮ রান।

প্রথম সেশনে দুই উইকেট তুলে নেওয়ায় ম্যাচে ফেরার কিছুটা সম্ভাবনা তখনো ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে হজ ও অভিষিক্ত উইকহ্যাম মিলে সেই সম্ভাবনাকে অনেকটাই ক্ষীণ করে দেন। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে দুজনেই খেলতে থাকেন দাপটের সঙ্গে। স্পিন কিংবা পেস কোনো আক্রমণেই তাদের আটকানো যায়নি। দ্বিতীয় সেশনে বিনা উইকেটে আরও ১৩১ রান যোগ করেন দুজন।

এর মধ্যেই নিজের দ্বিতীয় ইনিংসে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন উইকহ্যাম। প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা এই ব্যাটসম্যান অভিষেক টেস্টেই দুই ইনিংসে অর্ধশতকের কীর্তি গড়েন। অন্য প্রান্তে হজও দ্রুত এগোতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। চা-বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড পৌঁছে যায় ২২৯ রানে।

শেষ সেশনে সুইপ শটে বাউন্ডারি মেরে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হজ। তার সঙ্গে উইকহ্যামের জুটিও ক্রমেই বড় হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল। ৭৮ রান করা উইকহ্যামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দিনের তৃতীয় সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।

উইকহ্যামের বিদায়ের পরও বাংলাদেশের স্বস্তি মেলেনি। নতুন ব্যাটসম্যান জাঙ্গুকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময় নিরাপদেই পার করেন হজ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ রান করা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকেন ১৪০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ১১৮ রানে ২টি ও মিরাজ ৫৮ রানে একটি উইকেট নিয়েছেন।

শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন বাস্তবতা। টেস্ট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে টাইগারদের। ২০০৯ সালে গ্রেনাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এসেছিল সেই জয়। অথচ সিলেটে চতুর্থ দিন শেষেই ক্যারিবীয়দের লিড ৩১৫ রান। হাতে রয়েছে আরও ৭ উইকেট। অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর রান না তুললেও জয়ের জন্য নিজেদের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

দুই ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। তাই সমতা ফেরাতে সিলেটে জয়ের বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে।

RELATED ARTICLES

Most Popular