রিয়াদের বাণিজ্যিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এতে দেশটির সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আজ রোববার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানান, হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত কয়েক মাসে হুতিরা বারবার আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। তেলবাহী জাহাজ, শোধনাগার, তেল সংরক্ষণাগার এবং কোম্পানিটির সদরদপ্তরও হামলার মুখে পড়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, ‘কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টের (কেএএফডি) আরামকো টাওয়ারে হামলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত।’
আরও দুজন প্রত্যক্ষদর্শী ভবনটিতে ক্ষয়ক্ষতি হতে দেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
আরামকোর বহুতল ভবনটির আশপাশে থাকা আরেক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, তিনি ভবনটিতে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা আঘাত হানতে দেখেছেন। তবে সেটি ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
‘কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট’ সৌদি আরবের চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম বড় নিদর্শন। ওই এলাকায় কাচে ঘেরা সুউচ্চ ভবন, বিলাসবহুল বিপণিবিতান ও সবুজ চত্বর নির্মাণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি বড় স্থানীয় কোম্পানি এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় রয়েছে কেএএফডিতে।
সৌদি আরবের প্রভাবশালী সার্বভৌম সম্পদ তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) সদর দপ্তর। দেশটির স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনও এখানেই অবস্থিত।
এলাকাটির কেন্দ্রস্থলে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) সদর দপ্তর এবং দেশটির স্টক এক্সচেঞ্জ অফিস অবস্থিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিরা আবাসিক ভবন ও বড় একটি মেট্রো স্টেশনবিশিষ্ট এলাকায় হামলা চালানোর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আরামকো টাওয়ারের একাধিক তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হয়েছে। ভবনটির কাচ ভেঙে গেছে এবং বাইরের দেয়ালের একাংশেও ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আজ রিয়াদে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভবনটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে, কেউ হতাহত হননি।’
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট রিয়াদে দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে।
এর আগে রয়টার্স গতকাল শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে একটি গ্রামে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল।
জুলাইয়ে সৌদি আরব ও ইরানপন্থি গোষ্ঠীটির মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
হুতিদের প্রায় প্রতিদিনের হামলার মুখে মিত্র দেশগুলোর কাছে সহায়তা চাইছে সৌদি আরব। সম্প্রতি রিয়াদ-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে গোষ্ঠীটি।
