মিরপুরে শট নির্বাচন নিয়ে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি তাওহিদ হৃদয়কে। প্রশ্ন উঠেছিল তার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও। তবে সিলেটে ব্যাট হাতে যেন সেই সমালোচনার জবাবই দিয়েছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান। দলের বিপর্যয়ের মধ্যে খেলেছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে সমালোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হৃদয়। তার মতে, খারাপ খেললে সমালোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এক-দুই ইনিংসের ব্যর্থতা দিয়ে কোনো ক্রিকেটারকে বিচার করা ঠিক নয়।
সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং যখন ধুঁকছিল, তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। দলের ১৮৪ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও হাল ছাড়েননি। শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পরিস্থিতির দাবি মেনে কখনো রক্ষণাত্মক, কখনো আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তিনি।
দুর্দান্ত এই ইনিংসের পর সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে মিরপুরে তার ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ। হৃদয় অবশ্য সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। বরং সেখান থেকেও শেখার সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি, ‘সমালোচনা তো থাকবেই। আপনি আপনার পেশায় বা যেকোনো পেশাতেই সমালোচনা থাকবে। যেদিন আমরা ভালো করি, সেদিন আপনারাই আমাদের জন্য ইতিবাচক কথা বলেন। যেদিন খারাপ করব, সেদিন আপনারাই বলবেন। এটাই তো স্বাভাবিক। আমার কাছে মনে হয়, সমালোচনা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যদি সেটাকে সঠিকভাবে নিতে পারি।’
তবে সমালোচনা করার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করেন এই ব্যাটসম্যান। বিশেষ করে একটি বা দুটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কারও সামর্থ্য নির্ধারণের বিপক্ষে তিনি, ‘আপনি নিয়মিত সব জায়গায় পারফর্ম করবেন না। একদিন-দুইদিন হবে না, এটাই তো স্বাভাবিক। বিশ্বের সব দলের ক্ষেত্রেই এমন হয়। একদিন-দুইদিনের পারফরম্যান্স দেখে কাউকে বিচার করাটাও ঠিক নয়।’
এরপর সমালোচনার যৌক্তিকতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা ভুল করলে অবশ্যই আপনারা সমালোচনা করবেন। সেই অধিকার আপনাদের আছে। তবে এক-দুই ইনিংসে নয়। একই ভুল যদি ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে, তখন সমালোচনা করা যায়।’
মিরপুরে যে শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সিলেটেও সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে দেখা গেছে হৃদয়কে। তবে তার দাবি, শুধু আক্রমণ করার জন্যই আক্রমণ করেন না তিনি। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। কখনো প্রতিপক্ষের চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পাল্টা আক্রমণই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
এ প্রসঙ্গে হৃদয় বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি আক্রমণ করার দাবি করে, তাহলে আক্রমণ করব। কিছু সময় পাল্টা আক্রমণ না করলে সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। কোনো দল পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করার আগে আমাদেরও কিছু না কিছু পাল্টা আক্রমণ করা উচিত। এ কারণেই আমি এটা করতে পছন্দ করি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের ইনিংসেও সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করেছেন হৃদয়। প্রতিপক্ষের ফিল্ডিং সাজানোর ধরন বুঝে বেছে নিয়েছেন শট। বিশেষ করে বাউন্ডারিতে বেশি ফিল্ডার থাকায় রান তুলতে উড়িয়ে মারার বিকল্প খুব বেশি ছিল না বলে জানান তিনি, ‘ওদের বেশির ভাগ ফিল্ডার পেছনে ছিল। তাই রান করতে গেলে ওপর দিয়েই মারতে হতো। এ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু সিঙ্গেল নিয়ে খুব বেশি কিছু করা যেত না। আমি সঠিক বল ও বোলার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরিকল্পনা করেছি, কোন বোলারকে লক্ষ্য বানানো যায়।’
তবে এত আলোচনার জন্ম দেওয়া ইনিংসটিকেও নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বলতে রাজি নন হৃদয়। এমনকি আড়াইশ রানের কাছাকাছি গিয়েও সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে না পারায় কোনো আক্ষেপ নেই তার। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জন্য অবদান রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
নিজের মানসিকতায় পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছেন হৃদয়, ‘আগে হয়তো অনেক চিন্তা করতাম, কী হবে না হবে। এখন আর ওরকম চিন্তা আসে না। আমার হাতে যেটা আছে, সেটা হলো আমি ঠিকভাবে অনুশীলন করছি কি না, পরিশ্রম করতে পারছি কি না। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
