বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি (২৭) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশার (১৯) আরও ৭ দিন রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন।
এর আগে দিশাকে গ্রেপ্তারের পর গত ১ নভেম্বর তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
চারদিনের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া পুলিশের ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি দিশাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে আবেদনে বলা হয়, তাহসিফ সাউরি মারা যাওয়ার আগে গত ২৭ অক্টোবর দিশার সঙ্গে তিনি উত্তরা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। সন্ধ্যায় তারা একাধিকবার সিপিতে গিয়ে স্ন্যাক্স খান। মোটরসাইকেল গ্যারেজে তাহসিফ ও দিশা একসঙ্গে গিয়েছিলেন। তারা একসঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছেন বলেও তথ্য দিয়েছেন দিশা।
পুলিশ বলছে, আসামি দিশা চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের জবাব তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান এবং নীরব থাকেন।
রিমান্ডে থাকা আরেক আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার তথ্য ‘ক্রসচেক’ করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয় রিমান্ড আবেদনে।
এতে আরও বলা হয়, তাহসিফের মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে মামলার সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত।
রিমান্ড আবেদনে কিছু কারণ উপস্থাপন করে পুলিশ জানায়, তাহসিফের সঙ্গে দিশার বাকবিতন্ডা, কথা কাটাকাটি হয়েছিল কি না কিংবা যাচাই, রহস্য উদঘাটন, অপর আসামিদের গ্রেপ্তার ও দীপের শনে বক্তব্য ক্রসচেকের জন্য দিশাকে রিমান্ডে রাখা প্রয়োজন।
