Homeসারাদেশ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্রে ৩ বছর পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার

‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্রে ৩ বছর পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপজেলার রামনগর গ্রামে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে গতকাল শুক্রবার কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মহব্বত আলী ওই গ্রামের রুসমত আলীর ছেলে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪)।

এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বত আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার বাবা ওই বছরের ১৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুপক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে মহব্বতকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি ফোনালাপের রেকর্ডের সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্র মেলে। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

এর আগে এ হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—শফিক মিয়া (৩৮) ও তার ছোট ভাই শিপন মিয়া (৩৪), জয়নাল মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (২৩), গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও বাবু মিয়া (২৫)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ডেইলি স্টারকে বলেন, এ ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়ার সময় ফোনে শাহ আলম বলেন, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ ওই কথোপকথনের রেকর্ড ডিবির হাতে আসার পর তদন্তে নতুন সূত্র পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে গতকাল রামনগর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলমের ভাতিজির সঙ্গে মহব্বতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন মহব্বত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী মহব্বতকে বাড়িতে ডেকে আনেন জাহানারা। পরে বাড়িতে লোকজন আসবে বলে তাকে একটি ওয়ার্ডরোবের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন তারা।

ওসি বলেন, উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিহত মহব্বতের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ছিল। স্থানীয় কয়েকজন মাদককারবারির সঙ্গেও তার বিরোধ চলছিল। নিখোঁজের ঘটনায় করা মামলায় এসব বিরোধের সূত্র ধরে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular