এ বছর ‘আবু খালেদ পাঠান সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন কবি আবিদ আনোয়ার এবং শিশুসাহিত্যিক, গল্পকার ও নাট্যকার মাসুম মাহমুদ।
আজ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এস মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
কবি আবিদ আনোয়ার ১৯৫০ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে—ধলপহরের পদাবলি, আটকে আছি মধ্যনীলিমায়, নির্বাচিত কবিতা, কাব্যসংসার ও মশার মেয়ে পুনপুনি।
অন্যদিকে শিশুসাহিত্যিক মাসুম মাহমুদের জন্ম ১৯৮৪ সালের ২০ এপ্রিল। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে—শব্দের ঘ্রাণ, সপ্তর্ষির মুখ, যেভাবে ভালো থাকি ও ভেতর ছড়িয়ে পড়ে।
কিশোরগঞ্জের ‘আবু খালেদ পাঠান ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘যাদের জন্য এ সাহিত্য পুরস্কার, তাদের প্রাপ্তির মাত্রা বাড়ানো উচিত। অনেক সাহিত্য পুরস্কার বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো অনেকেই ভালো লিখছেন।’
তাদের স্বীকৃতির জন্য পুরস্কারের মূল্যমান সম্মানজনক ও যথাযথ হওয়ার ওপর জোর দেন ইমদাদুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ফরিদ কবির।
তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে দুটি শ্রেণি আছে। একটি শ্রেণি দেয়, আরেকটি শ্রেণি নেয়। আবু খালেদ পাঠান তেমনই একজন মানুষ ছিলেন, যিনি হয়তো কেবল দিতেই এসেছিলেন। এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে।’
এ পুরস্কার নতুন প্রজন্মের লেখক ও কবিদের অনুপ্রাণিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও লেখক আরিফ খান।
তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ আছেন, যারা তাদের কাজের মধ্য দিয়ে সমাজকে সমৃদ্ধ করেন। আবু খালেদ পাঠান তেমনই একজন মানুষ ছিলেন।’
এসময় তিনি সংবিধানের তিনটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরে সাহিত্য ও সাহিত্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আবু খালেদ পাঠান ফাউন্ডেশনের সভাপতি নায়লা ইয়াসমিন বলেন, ‘মূলত কিশোরগঞ্জের কবি-সাহিত্যিকদের উৎসাহিত করতেই এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে।’
সবার আন্তরিক সহযোগিতায় পুরস্কার প্রদানের এ উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুরস্কার প্রদান কমিটির আহ্বায়ক, লেখক ও সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ‘আবু খালেদ পাঠান সাহিত্য পুরস্কারের’ যাত্রা শুরু হয়। প্রথম আয়োজনে পুরস্কার পান কবি ও সংগীতশিল্পী কফিল আহমেদ এবং কবি ও প্রাবন্ধিক আফরোজা সোমা। দ্বিতীয় আয়োজনে পুরস্কৃত হন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ কামরুল হাসান এবং গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার গোলাম শফিক।
