মাসিক মজুরি ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়কে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে কুতুবআইল কাঠেরপুল এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘শ্রমিকরা মূল সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি যে মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে, সিদ্ধান্ত একটা আসবে।’
‘অনুরোধের পরও সড়ক না ছাড়ায় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। আমরা কোনোভাবেই রাস্তা দখল করে জনভোগান্তি তৈরি করতে দেবো না,’ বলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ওষুধ বিক্রেতা বলেন, পোশাকশ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার পর প্রথমে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক অভিযোগ করেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। বিএনপির নেতারা এসে আমাদের শ্রমিকদের মারধর করেন।’
পোশাকশ্রমিকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করছি। আমাদের কোনো নেতাকর্মী কোনো শ্রমিকের গায়ে হাত তোলেনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বোঝাচ্ছি, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, আলোচনা চলছে। সরকার তাদের দাবি অনুযায়ী যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কিছু বিশৃঙ্খল মানুষ, বিশেষত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা উসকানি দিয়ে শ্রমিকদের রাস্তায় নামাচ্ছে। সেই কারণে আমরা রাস্তায় আছি।’
‘কোনো শ্রমিকের সঙ্গে বৈরী আচরণ করার প্রশ্নই ওঠে না। যদি কেউ মারধর করে থাকলেও আমাদের দলের কেউ না,’ যোগ করেন তিনি।
‘পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর আমাদের কারখানাও ছুটি দিয়ে দেয়। রাস্তায় বের হয়ে আমরা টিয়ারশেলের মধ্যে পড়ে যাই,’ বলেন আরেক কারখানার নারী শ্রমিক।
টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক জান্নাত (১৮) অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে পাঁজাকোলা করে সহকর্মীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
গতকাল ও গত পরশু একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। গতকাল বিকেলেও পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) শামীম হোসাইন জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
