চোয়াল ভেঙে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৪০ থেকে ৬০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক যেন সেই অপেক্ষা করতেই রাজি নন। অস্ত্রোপচারের পর প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সেরে উঠেছেন তিনি। এরই মধ্যে ফিরেছেন চেলসির অনুশীলনে। তবে চেনা চেহারায় নয়, বিশেষ এক মাস্ক পরে। কার্বন ফাইবারের তৈরি সেই মাস্ক নিয়েই এখন মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ‘দিবু’ মার্তিনেজ।
বৃহস্পতিবার চেলসির অনুশীলনে বিশেষ সুরক্ষামূলক মাস্ক পরে হাজির হন এমিলিয়ানো। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নভেম্বরের প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার দুই দিন পরই অনুশীলনে ফেরেন তিনি। তার লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই চেলসির হয়ে মাঠে নামা। এমনকি সব ঠিক থাকলে আগামী রোববার সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা যেতে পারে তাকে।
গত ১৭ অক্টোবর এভারটনের বিপক্ষে চেলসির ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন এমিলিয়ানো। প্রতিপক্ষের একটি ক্রস ঠেকাতে এগিয়ে গিয়ে এভারটনের ডিফেন্ডার জারাড ব্রান্থওয়েটের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তার। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে মাঠেই আট মিনিটের বেশি সময় চিকিৎসা ও অক্সিজেন দিতে হয়েছিল তাকে। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করাতে হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে প্রায় দুই মাস লেগে যেতে পারে।
কিন্তু এমিলিয়ানো ফেরার লড়াই শুরু হয় অস্ত্রোপচারের মাত্র চার দিন পরই। তখন থেকেই জিমে হালকা ব্যায়াম ও স্টেশনারি বাইসাইকেলে অনুশীলন শুরু করেন তিনি। এবার মাঠের অনুশীলনেও ফিরেছেন। যদিও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামতে এখনও চিকিৎসকদের অনুমোদন প্রয়োজন।
অনুশীলনে এমিলিয়ানোর মুখে দেখা গেছে বিশেষভাবে তৈরি কার্বন ফাইবারের মাস্ক। হালকা হলেও বেশ মজবুত এই মুখোশের ভেতরে রয়েছে নরম প্যাডিং, যা আঘাতের ধাক্কা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। অস্ত্রোপচার করা চোয়ালের অংশকে সুরক্ষিত রাখতেই এটি ব্যবহার করছেন তিনি।
তবে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও চোটের ধকল এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি এমিলিয়ানো। সম্প্রতি লস এদুল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। মজা করেই বলেছেন, ‘এটা যদি ইউএফসিতে হতো, তাহলে সেদিনের সেরা নকআউট হতো। কয়েক দিন ধরে চোখে তারা দেখেছি। আমি জ্ঞান হারিয়েছিলাম। শুধু মনে আছে, কাইসেদো একটা ফাউল করেছিল। কিন্তু আঘাত পাওয়ার মুহূর্ত, স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়া, কিছুই মনে নেই।’
অস্ত্রোপচারের পর কতটা কঠিন সময় কাটাতে হচ্ছে, সেটিও জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক, ‘অস্ত্রোপচারে আমার চোয়ালে একটি প্লেট আর চারটি স্ক্রু বসানো হয়েছে। একটি বাইরে, বাকি তিনটি ভেতরে। আমার তিনটি দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছি না। ছোট বাচ্চাদের মতো সবকিছু পিউরি করে খেতে হচ্ছে। পুষ্টিবিদ আমাকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু অনুশীলনের বাইরে শরীরে শক্তির অভাব অনুভব করি।’
এদিকে, এমিলিয়ানোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আশাবাদী চেলসির কোচ জাবি আলোনসোও। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে পাওয়া যাবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে স্প্যানিশ কোচ বলেছেন, ‘সম্ভাবনা আছে।’
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে চিকিৎসকদের সবুজ সংকেতের ওপর। সেটি পেলেও এমিলিয়ানোকে সরাসরি একাদশে ফেরানো হবে, নাকি সর্বশেষ দুই ম্যাচে গোলপোস্ট সামলানো মাইক পেন্ডার্সের ওপরই আস্থা রাখবেন আলোনসো, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে, চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন এমিলিয়ানো। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তিন বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং ১৭ নভেম্বর কর্দোবায় কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল।
দলে ডাক পাওয়ার আগেই জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন মার্তিনেজ, ‘মার্তিন তোকাই ও স্কালোনির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমার পরিকল্পনা হলো দুটি ম্যাচের জন্যই প্রস্তুত থাকা। প্রথম ম্যাচে নাকি দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে পারব, সেটা জানি না। সবকিছু নির্ভর করবে আমার শারীরিক অবস্থা এবং এই সপ্তাহে কতটা উন্নতি করতে পারি, তার ওপর।’
