২০১৮ সালের বহুল আলোচিত ‘স্যান্ডপেপারগেট’ বা বল বিকৃতি কাণ্ডের দায় পুরো অস্ট্রেলিয়া দলের ওপর চাপিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে আলোচনায় উসমান খোয়াজা। তবে তিনি দাবি করেছেন, এ কথা বলে তিনি কাউকেই বিপদে ফেলেননি। একই সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন সদ্য অবসর নেওয়া এই ব্যাটার।
খোয়াজার ভাষ্য, ‘আমরা সবাই এতে যুক্ত ছিলাম। কেবল ব্যাটার, বোলার বা কোচিং স্টাফ নয়, পুরো দলই এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।’ খোয়াজা আরও অভিযোগ করেন, কেপটাউন টেস্টের আগে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টেও অস্ট্রেলিয়া এই কৌশল ব্যবহার করেছিল।
খাওয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তা দেখে রবিবার এক দীর্ঘ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সাবেক বাঁহাতি ওপেনার নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যায় লেখেন, ‘আমি যখন বলেছি আমরা সবাই এতে যুক্ত ছিলাম, তার অর্থ হলো পছন্দ হোক বা না হোক, দল হিসেবে যা ঘটেছে তার দায় আমাদের সবার। এই দায় আমাদের যৌথভাবে নেওয়া উচিত, ব্যস এতটুকুই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি কাউকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করিনি। বর্তমানে দলে থাকা ক্রিকেটার কিংবা সাউথ আফ্রিকা সফরের দলে থাকা অন্য সদস্যরা—এমনকি আমিও কোনো ভুক্তভোগী নই। মূল দায়টা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছিলেন ওই তিনজন (স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফ্ট)।’
খোয়াজার মতে, ‘প্রকৃত ভুক্তভোগী তো তারাই… মানুষ তাদের প্রতারক বলেছে, মাঠে দর্শকদের দুয়োনি শুনতে হয়েছে, এভাবে প্রকাশ্যে অপমান সহ্য করতে হয়েছে।’
৮৮ টেস্ট খেলে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ৩৯ বছর বয়সী খোয়াজা বই বিক্রির উদ্দেশ্যে এত বছর পর মুখ খুলেছেন—এমন অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা আসার পরপরই তিনি সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।
খোয়াজা জানান, ২০২১ সালেও তিনি সত্য বলতে চেয়েছিলেন, যখন দলের চার বোলার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন প্রকাশ্যে জানান যে তারা বল বিকৃতির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। তবে তৎকালীন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি আর এগোননি।
২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরার পর আর মুখ খোলার সুযোগ হয়নি বলে জানান খোয়াজা। তিনি বলেন, ‘আমাকে ভীরু বলুন বা অন্য যা খুশি বলুন। আমি তখন দলে থাকায় কীভাবে মুখ খুলব বুঝতে পারছিলাম না। সবসময় দলকে সবার আগে অগ্রাধিকার দিয়েছি। তবে এখন আর আমি সেই দলের অংশ নই।’
