Homeস্পোর্টসরোনালদোর সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে: জেসুস

রোনালদোর সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে: জেসুস

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অবসরের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করলেন পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুস। তবে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর কিছু করার নেই বলেও জানালেন তিনি।

জাতীয় দলে সুদীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা গতকাল বৃহস্পতিবার দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন সাবেক পর্তুগিজ অধিনায়ক। এমনকি পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়েও আচমকা চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই বহুল আলোচিত-সমালোচিত ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরোয়ার্ড।

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর গত জুলাইতে দলটির কোচের দায়িত্ব নেন জেসুস। তখন রোনালদোর সঙ্গে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠক করেছিলেন তিনি। এরপর সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও শিষ্যের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে হতাশা গোপন করেননি জেসুস। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম কানাল ১১-কে তিনি বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে (আমার অধীনে) প্রথম দল ঘোষণার আগে এই বিষয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আমি তাকে আমার সঙ্গে থেকে যেতে বলেছিলাম। কারণ আমার পাশে তাকে প্রয়োজন ছিল। তবে তার সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে।’

আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতে উয়েফা নেশন্স লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণার কথা ছিল ৭২ বছর বয়সী জেসুসের। এর আগের দিনই রোনালদোর অবসরের ঘোষণা নিয়ে জেসুসের মন্তব্য, ‘এটা সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত।’

দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে রোনালদোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা করার পাশাপাশি ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। এর আগে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ওই কাণ্ডের জন্য সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পর্তুগালের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে করেছিলেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার আশায় যখন অধীর অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা, তখনই তাদের মেলে দুঃসংবাদ। তবে মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ছাপিয়ে রোনালদোর অবদান ও অর্জনের প্রশংসা করেন রোনালদোর বর্তমান ক্লাব আল নাসরের সাবেক কোচ জেসুস, ‘আল নাসরে তার সঙ্গে এক বছর কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। সে বিশ্বজুড়ে একজন আইকন, পর্তুগিজ আইকন ও জাতীয় দলের আইকন।’

জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল রয়েছে রোনালদোর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার ও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড তার দখলে। পর্তুগালের ইতিহাসের তিনটি শিরোপাই এসেছে তার নেতৃত্বে— ২০১৬ ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ নেশন্স লিগ।

রোনালদোর অবদান স্মরণ করে জেসুস বলেন, ‘বছরের পর বছর সে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। সে সব সময়ই আমাদের জাতীয় দলের, আমাদের মানুষের ও আমাদের ইতিহাসের আইকন হয়ে থাকবে। পর্তুগিজদের হৃদয়ে ও জাতীয় দলে তার জায়গা সব সময় থাকবে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। কারণ সে চিরকাল পর্তুগিজ ফুটবলের একজন কিংবদন্তি হয়ে থাকবে।’

তরুণ প্রজন্মের ওপর রোনালদোর অসামান্য প্রভাবেরও কথা তুলে ধরেন তিনি, ‘সে পর্তুগালের তরুণদের কাছে একটি প্রতীক। তার অধিকাংশ সমর্থকই তরুণ। প্রতিদিন সেখানে থাকা তরুণ খেলোয়াড় ও আমার সহকর্মীদের জন্য অডিটোরিয়ামে আমি তার একটি বড় ছবি ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছি।’

RELATED ARTICLES

Most Popular