যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার পথে রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের আসন ছিনিয়ে নিয়ে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে দলটি।
বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক ফলও আসতে শুরু করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে সারা দেশে ভোট গণনা চলায় গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ফল নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি।
আজ বুধবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেনটাকি, নিউ জার্সি ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অন্তত ৮টি রিপাবলিকান আসন দখলে নেওয়ার পাশাপাশি কট্টর রক্ষণশীল এলাকাগুলোতেও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
বেশ কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও গণমাধ্যমে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তবে পরিষদের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর বেশির ভাগের ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এখন পর্যন্ত রিপাবলিকানদের কাছ থেকে চারটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ৪৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে নিজেদের বর্তমান আসনগুলোর মধ্যে একটি হারালেও দলটির সমস্যা হবে না।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে এবার নির্বাচন হচ্ছে। বর্তমানে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের হাতে। তবে ঐতিহাসিকভাবে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল সুবিধা পেয়ে থাকে। জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি।
প্রাথমিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকানের প্রতি ভোটারদের বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই বছর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস তাকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৯৯৮ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট হিসেবে সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে তার এই জয়কে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ১৮ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
অ্যান্ড্রুজের জয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট রয় কুপারের বিজয়ের ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনীয় চারটি আসনের মধ্যে দুটি পেয়েছে দলটি। ফলাফল থেকে আরও ইঙ্গিত মিলছে, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও প্রভাব ফেলছে ডেমোক্র্যাটদের এমন জয়।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তার বোন ডারলিনকে ওই আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে পূর্ণ ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন ট্রাম্প। তবে রাজনীতিতে তার অনভিজ্ঞতা নির্বাচনে হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা একই ধরনের সাফল্য দেখাতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাস। এসব রাজ্যে এখনো ভোট গণনা বাকি।
জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে সিনেটের আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাটরা। একসময় এ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস। আটলান্টার সাবেক মেয়র বটমস যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হতে যাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
