Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েলে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণে আইসেনকট

ইসরায়েলে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণে আইসেনকট

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ জন সদস্যের সুপারিশ পাওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকট। তবে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোই এখন তার জন্য কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদর্শিক ও জাতিগতভাবে ভিন্ন মেরুর যেসব দল আইসেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেছে, তাদের মধ্যে বামপন্থি, ডানপন্থি ও মধ্যমপন্থি দলের পাশাপাশি আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলও রয়েছে। তিনি যেভাবেই জোট সাজান না কেন, তার নেতৃত্বে এক হতে হলে এসব দলের বেশির ভাগকেই নির্বাচনী প্রচারের সময় দেওয়া কঠোর প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হবে।

তারপরও জোট গঠনের জন্য আইসেনকট ও তার মিত্রদের ওপর প্রবল চাপ রয়েছে। কারণ, তাদের দৃষ্টিতে জোট গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পরিণতি আরও ভয়াবহ।

সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে আবারো নির্বাচন হতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সব ধরনের সুবিধা নিয়ে ক্ষমতায় থেকে যাবেন নেতানিয়াহু। এ ছাড়া অক্টোবরের নির্বাচনে হাজারো প্রবাসী ইসরায়েলি দেশে ফিরে ভোট দেওয়ায় বিরোধীরা যে ভালো ফল পেয়েছিল, নতুন নির্বাচন হলে তার পুনরাবৃত্তি না-ও হতে পারে।

আইসেনকট ও নেতানিয়াহু পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন—এমন জাতীয় ঐক্যের সরকারের সম্ভাবনা নির্বাচনের আগেই ক্ষীণ ছিল। এখন তা প্রায় অসম্ভব। নির্বাচনী প্রচারে কিছু বিষয়ে নমনীয়তার সুযোগ রাখলেও একটি বিষয়ে শুরু থেকেই অনড় ছিলেন আইসেনকট। তার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার সময় দেশের প্রতিরক্ষার চূড়ান্ত দায়িত্বে থাকা নেতানিয়াহু সরকারে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নির্বাচনের পর আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু। এতে বিরোধীদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একচেটিয়া ফলাফলও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর তাগিদ বাড়িয়েছে। বিরোধী নেতাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের কাছেই ইসরায়েলের ভাবমূর্তি এখন তলানিতে। নেতানিয়াহুর প্রতি বিরূপ মনোভাব এতটাই তীব্র যে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দুই দেশের সম্পর্ক মেরামতের কাজ শুরু করাও কঠিন।

শুক্রবার আইসেনকট বলেন, ‘ইসরায়েল ইতোমধ্যে এক বিপজ্জনক কূটনৈতিক সুনামির কবলে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নেতানিয়াহুর কর্তৃত্ব বজায় থাকা ‘বিপজ্জনক এবং এটি আর এক দিনের জন্যও চলতে দেওয়া উচিত নয়’।

শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের সরকার গঠন করতে পারবেন আইসেনকট?

পার্লামেন্টে ৪৮ আসনের সমর্থন রয়েছে তার পক্ষে। এর মধ্যে নিজের মধ্য-ডানপন্থি দল ইয়াশার পার্টির ২১টি, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের মধ্যপন্থি টুগেদার পার্টির ১২টি, ইয়ার গোলানের বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির ৮টি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ধর্মনিরপেক্ষ ডানপন্থি দল ইসরায়েল বেইতেইনুর ৭টি আসন রয়েছে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের হাতে রয়েছে এর চেয়েও কম আসন। কট্টর অর্থোডক্স দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬টিতে।

পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া তো দূরের কথা, জোটের আকার বড় করতেই আইসেনকটের সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় ১৩টি আসন পাওয়া কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে, নয়তো রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জোট আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও উপদেষ্টাদের বরাতে বলা হয়েছে, দুটি পথেই রয়েছে বড় ধরনের জটিলতা।

প্রথমে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। তবে পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেবেন। নেতানিয়াহুর অনুগত বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনের চেষ্টা করছেন আইসেনকট।

এতে সফল হলে পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে আইসেনকটের মিত্রদের হাতে। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট নতুন আইন পাসের কাজ শুরু করতে পারবে। এতে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পাশাপাশি আইসেনকটের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও প্রমাণের সুযোগ তৈরি হবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ হবে নেতানিয়াহুর জোটের পাস করা বিতর্কিত আইনগুলো বাতিল করা। এর মধ্যে রয়েছে বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা কমানোর মতো বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মতো আইন।

এ ছাড়া বিরোধীদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতার তদন্তে একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলে সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

আরব দলগুলোকে জোটের বাইরে রাখার শর্ত

গত সপ্তাহে একটি ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে শুরু করেন আইসেনকোট। তার বক্তব্যের ধরনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল পলিসি ফোরামের জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজের উপদেষ্টা নিমরদ নভিক নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যখন জরুরি অবস্থার মতো হয়, তখন মানুষ এমন অনেক পদক্ষেপ নেয়, যা স্বাভাবিক সময়ে নেয় না।’

আরব দলগুলোর ১৯টি আসন পেলে আইসেনকট সহজেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবেন। কিন্তু এসব দলকে সরকারে নিলে অন্য মিত্রদের হারানোর ঝুঁকি রয়েছে তার।

আপাতত আরব দলগুলোর সরাসরি সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য অনিশ্চিত। তিনটি ছোট আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট (১১টি আসন) সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তবে সংখ্যালঘু সরকার টিকিয়ে রাখতে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে তারা। অন্যদিকে আটটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রাম এখনো সরকারে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেনি। তবে আইসেনকট শর্ত দিয়েছেন, তার সরকারে যোগ দিতে হলে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে যেকোনো দলকে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামের নেতা মনসুর আব্বাস সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানালেও সরাসরি ওই ঘোষণা দিতে রাজি হননি। তবে বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, হামাসসহ ফিলিস্তিনিদের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করা উচিত।

মনসুর আব্বাস আইসেনকটের শর্ত মেনে নিলেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন ইসরায়েল বেইতেইনু দলের নেতা লিবারম্যান। আরব দলগুলোকে সরকারে রাখা কিংবা বাইরে থেকে তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব বারবার নাকচ করেছেন তিনি। ফলে আইসেনকটের সামনে বাকি থাকে কেবল কট্টর অর্থোডক্স বা হারেদি দলগুলোর ওপর নির্ভর করা।

কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা?

কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথটিও ঝুঁকিতে ভরা। হারেদি জনগোষ্ঠীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ বা সেনাবাহিনীতে যোগদান এবং তা এড়ানোর শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া।

বর্তমানে ইসরায়েলে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার উপযুক্ত বয়সী তরুণদের প্রতি চারজনের একজন হারেদি সম্প্রদায়ের। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যখন চাপের মুখে, তখন দেশ রক্ষার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হারেদি তরুণদেরও সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি ছিল আইসেনকট ও তার মিত্রদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

কিন্তু আরব দলগুলোকে সরকারে না রাখার শর্তে অনড় থাকতে গিয়ে লিবারম্যান এখন হারেদিদের সেনাবাহিনীতে আনার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার পথ বেছে নিয়েছেন।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিবারম্যান লেখেন, নেতানিয়াহুকে সরানো, নতুন নির্বাচন এড়ানো এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে যেকোনো ধরনের অংশীদারত্ব বর্জনের প্রশ্নে তিনি অনড়। তবে ‘অন্য সব বিষয়ে নমনীয় হওয়া ও সমঝোতা করা সংগত। বুঝতে হবে, সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইনের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত।’

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারে হারেদিদের সেনাবাহিনীতে আনার বিষয়ে আইসেনকট কিছুটা নমনীয় থাকলেও টুগেদার পার্টির নেতা নাফতালি বেনেট ছিলেন কঠোর অবস্থানে। এখন সমঝোতা করতে হলে বেনেটকেও তার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হবে।

এ ছাড়া হারেদি দলগুলোর নেতারা জোট সরকারের দর-কষাকষিতে আইসেনকটের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। গত কয়েক বছরে তাদের ভোটাররাও ক্রমেই কট্টর ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফলে এসব দলের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো আইসেনকটের জন্য কঠিন হতে পারে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাকোভস্কি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম যে নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করেনি, সেটি একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

তার ভাষ্য, ‘এর মানে হলো আলোচনার দরজা খোলা আছে। কিন্তু কট্টর ডানপন্থি ভোটারদের মতের বিরুদ্ধে তারা কতটা যেতে রাজি হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।’

সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চিন্তা আইসেনকটের

নেতানিয়াহুর ৪৬ আসনের বিপরীতে নিজের পক্ষে ৪৮ আসনের সমর্থন থাকায় শুক্রবার আইসেনকট জানান, অন্তত শুরুতে তিনি একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন। সে ক্ষেত্রে সরকার গঠনের ভোটাভুটিতে আরব ও কট্টর অর্থোডক্স দলগুলোকে ভোটদানে বিরত থাকতে হবে।

তিনি জানান, তার শর্ত মেনে নিলে ব্যতিক্রম ছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক দলকে এখন বা পরে সরকারে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। তার শর্তগুলো হলো—ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে নেওয়া, সবার জন্য সামরিক বা বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের নির্মূল করার বিষয়ে একমত হওয়া।

কিন্তু এখানেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন লিবারম্যান। শুক্রবার তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া কোনো সরকার গঠনে তিনি রাজি নন।

বিরোধীদের পরামর্শক ও জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক গাইল তালশির বলেন, লিবারম্যান সত্যিই আইসেনকটের সাফল্য চান কি না, তা স্পষ্ট নয়।

লিবারম্যান প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে আইসেনকট মিত্র দলগুলোর ভোট নিজের দিকে টেনে নিয়েছেন। এর ফলে ইসরায়েল বেইতেইনু এবং নেতানিয়াহুবিরোধী জোট কয়েকটি আসন হারিয়েছে।

তালশির বলেন, আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে রাজি হলে নিজের ডানপন্থি ভোটারদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে লিবারম্যানের। এ ছাড়া তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ খুঁজছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আইসেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু। তিনিও ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন ঘোষণার আগে সংক্ষিপ্ত একটি সময় পাওয়া যাবে। তখন পার্লামেন্টের যেকোনো সদস্য, এমনকি লিবারম্যানও, অন্য ৬০ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন জোগাড় করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।

শুক্রবার সাবাথ শুরু হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিবারম্যানের এই বাধা এবং তার সম্ভাব্য গোপন উদ্দেশ্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন আইসেনকট।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘যৌক্তিক কারণের বদলে ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ যদি সরকার গঠনে বিলম্ব বা বাধা সৃষ্টি করেন, তবে ইতিহাস তাকে এমন একজন হিসেবে মনে রাখবে, যিনি জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ইসরায়েলকে বাঁচাতে এগিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ক্ষমা করা হবে না।’

RELATED ARTICLES

Most Popular