মাত্র এক মাস আগের ঘটনা। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে বিতর্কিত দুটি ঘটনার স্ক্রিনশট প্রিন্ট করে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন জোসে মরিনহো। ছবিগুলো দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, প্রতিপক্ষের দুই ফুটবলারের লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল। অথচ এবার যখন তার নিজের দলের ফুটবলারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে, তখন সেই মরিনহোই জানালেন, অনেক খুঁজেও ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ পাননি!
সাম্প্রতিক সময়ে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন মরিনহো। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞার পর স্প্যানিশ ফুটবলের রেফারিং ব্যবস্থা নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। কিন্তু সেভিয়ার বিপক্ষে আরদা গুলারের লাল কার্ড না পাওয়া নিয়ে যখন সমালোচনার ঝড়, তখন অনেকটাই সংযত মরিনহো। পর্তুগিজ কোচের দাবি, এত চেষ্টা করেও গুলারের অপরাধ প্রমাণ করে এমন কোনো ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাননি তিনি।
রোববার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি করে গোল করেছেন আরদা গুলার ও ইয়ান দিয়োমান্দে। তবে বড় জয়ের পরও আলোচনায় উঠে এসেছে প্রথমার্ধের বিতর্কিত একটি ঘটনা।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে সেভিয়ার পেকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে গুলারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনা করলেও তুর্কি মিডফিল্ডারকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি। এমনকি হলুদ কার্ডও দেখতে হয়নি তাকে। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই দুর্দান্ত এক গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন গুলার।
বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ শেষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা। তার দাবি, ওই ঘটনায় গুলেরকে লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল। সেটি হলে ম্যাচের বাকি সময় একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ পেত তার দল।
গার্সিয়া বলেন, ‘১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের খেলায় রিয়াল অবশ্যই জয়ের যোগ্য। কিন্তু আমাদের অন্য একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের ১০ জনের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল।’
এমনকি আগামী সপ্তাহের এল ক্লাসিকোর আগে রিয়ালকে বার্সেলোনার চেয়ে নয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়া থেকে বাঁচাতেই গুলেরকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন সেভিয়া কোচ।
তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি বিতর্কে জড়াতে চাননি মরিনহো। বরং দাবি করেন, গুলেরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পক্ষে কোনো ভিডিও ফুটেজই দেখতে পাননি তিনি।
মরিনহো বলেন, ‘যা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটি আমাকে কেউ দেখাতে পারেনি। আমার কাছে কোনো ফুটেজ নেই, আমিও ঘটনাটি দেখতে পারিনি। টেলিভিশন চ্যানেল ও বিশ্লেষকদের কাছে ফুটেজ চেয়েছি। কিন্তু সেভিয়া যে ঘটনা নিয়ে এত ক্ষুব্ধ, তার কোনো ছবিই খুঁজে পাইনি।’
এরপরই নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন পর্তুগিজ কোচ, ‘আমি সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে কথাগুলো বলছি। কখনো যদি মনে হয়, রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে আমরা সুবিধা পেয়েছি, তাহলে সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমার মনে হয়, উল্টো ঘটনাই আমাদের সঙ্গে বেশি ঘটবে। কারণ, সাধারণত এমনটাই হয়ে থাকে।’
এল ক্লাসিকোর আগে গুলারের সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন মরিনহো।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গুলারের ঘটনাটি ভিএআর প্রায় দুই মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যালোচনা করেছিল। তবে কনুইয়ের আঘাত ঠিক কোথায় এবং কতটা জোরে লেগেছিল, তা নিশ্চিত করার মতো ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল না পাওয়ায় মাঠের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানিয়েছে ‘আর্কিভো ভিএআর’।
রেফারিং বিতর্কের বাইরে অবশ্য সেভিয়ার বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট মরিনহো। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ভালো একটি দলের বিপক্ষে আমরা অনেকটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছি। ভালো খেলেছি। আমার মনে হয়, এটি সুন্দর একটি জয়।’
