ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। প্রয়োজনে আগামী কয়েক দিনে কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মাখোঁ বলেন, বৈধ দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের আলাদা করে দেখতে হবে। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির ঘোষণা দেননি তিনি।
এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার প্যারিসে অনুমতি ছাড়া সমাবেশের পর পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়েন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্যারিসে ১০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিপাবলিক চত্বরের আশপাশে অন্তত পাঁচটি দোকানে লুটপাট হয়। লিওঁ শহরেও একটি বিলাসবহুল পোশাকের দোকানে লুটপাটের চেষ্টা ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে শ্রমিক সংগঠন, সরকারবিরোধী ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ছিল তাদের ক্ষোভের প্রধান কারণ।
সহিংসতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বেড়েছে। কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন লে পেন বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে মাখোঁর সরকার ক্লান্ত ও দিশাহীন হয়ে পড়েছে।
কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন বলে জানিয়েছে এএফপি।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মাখোঁ। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ মোকাবিলায় কী ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়েও পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন মাখোঁ।
এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাঁত-এতিয়েন শহরে জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের আঘাতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের ডান হাত উড়ে গেছে। মুলুজ শহরে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী একটি চোখ হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলিরা। লিমোজ শহরের উনিশ শতকের একটি পৌর ভবনও আগুনে পুড়ে গেছে।
