চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচিত বিএনপি নেতা সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেওয়ার আইনি বাধা দূর হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে আদালত রায় দিয়েছেন।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রুলের শুনানি শেষে আজ এই রায় দেন।
ঋণখেলাপির অভিযোগে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল ইসি। পরে ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিলেন।
সারোয়ার আলমগীরের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট ওই রুল জারি করেন। রুলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
একই সঙ্গে আদালত ইসিকে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, তাকে নির্বাচনের প্রতীক ‘ধানের শীষ’ বরাদ্দ এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ারও নির্দেশ দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয়ী হন সারোয়ার।
গত ১৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক আদেশে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ারের নির্বাচনী ফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে হাইকোর্টকে পরবর্তী তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের শুনানি ও নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেন সর্বোচ্চ আদালত।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের করা একটি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আহসানুল করিম। জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। আর শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন আইনজীবী রাজু আহমেদ।
