ফুটবল মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ বহু পুরোনো। দুই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও কে সেরা, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে এবারের ব্যালন ডি’অরের ভোটে ব্রাজিলের সাংবাদিকের চোখে বিশ্বের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি! নিজের দেশের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে তো বটেই, পুরস্কারজয়ী হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালকেও পেছনে রেখে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে প্রথম স্থানে ভোট দিয়েছেন তিনি। শুধু ব্রাজিল নয়, আরও পাঁচ দেশের সাংবাদিকের প্রথম পছন্দ ছিলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
গত সোমবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে, তৃতীয় বার্সেলোনার ইয়ামাল। আর ৬১২ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম হয়েছেন ইন্টার মায়ামির মেসি।
শুক্রবার পুরস্কারটির আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল বিস্তারিত ভোটের হিসাব প্রকাশ করেছে। সেখানেই জানা গেছে, মেসিকে সেরা ফুটবলার হিসেবে বেছে নিয়েছেন ছয় দেশের সাংবাদিক। দেশগুলো হলো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও বেলারুশ।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ব্রাজিলের ভোট। দেশটির হয়ে ব্যালন ডি’অরের বিচারক ছিলেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার ক্লেবের মাশাদো। বর্তমানে টিভি রেকর্ডে কাজ করা এই সাংবাদিক অতীতে গ্লোবো ও অ্যামাজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
মাশাদো নিজের ভোটে মেসিকে প্রথম, এমবাপেকে দ্বিতীয় এবং রদ্রিকে তৃতীয় স্থানে রেখেছেন। ব্যালন ডি’অরজয়ী কেইন তার তালিকায় চতুর্থ। আর ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে রেখেছেন অষ্টম স্থানে।
এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক। আর্জেন্টিনার ক্রীড়া দৈনিক ওলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাশাদো বলেন, ‘দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একপাশে সরিয়ে রাখতে হবে। রদ্রি আগে ব্যালন ডি’অর জিতেছে এবং বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত খেলেছে। আমার কাছে বিশ্বকাপের সেরা দুই ফুটবলার ছিল মেসি ও এমবাপে।’
এরপর মেসিকে কেন এগিয়ে রেখেছেন, সেটিও জানিয়েছেন তিনি, ‘এমবাপে বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলেছে। তবে গত ১৫ বছরে মেসিই ছিল বিশ্বের সেরা ফুটবলার, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে ৩৯ বছর বয়সেও সে আবার নিজের প্রতিভা এবং ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে।’
বিশেষ করে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পেছনে মেসির অবদান মুগ্ধ করেছে তাকে, ‘ফুটবল বোঝার ক্ষমতার বিচারে মেসিকেই আমার সবচেয়ে পরিণত খেলোয়াড় মনে হয়েছে। আর্জেন্টিনা যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছে, তখন সে ডান প্রান্তে গিয়ে এমনভাবে খেলেছে যে কয়েকটি মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তার কারণেই আর্জেন্টিনা আবার ফাইনালে পৌঁছেছে। সে জন্যই মেসিকে ভোট দিয়েছি।’
অবশ্য এই প্রথম নয়, আগেও মেসিকে বিশ্বের সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মাশাদো। ২০২৩ সালে আর্জেন্টাইন তারকা যখন অষ্টম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, তখনও ব্রাজিলের সাংবাদিকের প্রথম পছন্দ ছিলেন তিনি।
এবারের ভোটে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। মাশাদো নিজের দেশের ভিনিসিয়ুসের চেয়েও সাত ধাপ ওপরে রেখেছেন মেসিকে। শুধু তা-ই নয়, চূড়ান্ত তালিকায় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা ভিনিসিয়ুসও হয়েছেন ১৭তম। তার মোট পয়েন্ট মাত্র ২৬।
অন্যদিকে মেসি পঞ্চম হলেও ছয়জন বিচারকের কাছ থেকে প্রথম স্থানের সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্ট করে পেয়েছেন। সব মিলিয়ে তার সংগ্রহ ৬১২ পয়েন্ট।
ব্যালন ডি’অরের পুরুষ বিভাগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ ফুটবলার নির্বাচন করেন। প্রথম স্থানের জন্য ১৫, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২ এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ১০ পয়েন্ট দেওয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যদের পয়েন্ট দেওয়া হয়।
এবার ১০০ বিচারকের মধ্যে ৪০ জন কেইনকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। এমবাপে প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন ২৩টি, ইয়ামাল ১৩টি। চতুর্থ হওয়া রদ্রিকে প্রথম স্থানে রেখেছেন ১০ জন সাংবাদিক।
সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কেইন। এমবাপে পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে নির্ধারিত হয়েছে বিজয়ী।
অন্যদিকে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন মেসি। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে খেলছেন তিনি। এরপরও বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স এবং ম্যাচে প্রভাব রাখার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছে বিভিন্ন দেশের বিচারকদের।
