রাজশাহী থেকে গত এপ্রিলে সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানিতে কাজ নিয়ে যান রব্বানী মো. গোলাম। যা আয় করেছিলেন তার প্রায় পুরোটাই দেশে পরিবারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। কাছে ছিল মাত্র ১০ ডলার।
আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকটি দেশের অভিবাসীকর্মীদের বেতন বন্ধ হয়ে যায় এবং সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে তাদের ওয়ার্ক পারমিটও বাতিল শুরু হয়। রব্বানী ছিলেন তাদেরই একজন।
তবে গতকাল শুক্রবার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির প্রস্তাব পান বাংলাদেশি কর্মী রব্বানী। সিঙ্গাপুরে বেতন বকেয়া থাকায় কঠিন পরিস্থিতির পর এবার তিনি ভাগ্য পরিবর্তনের আশা করছেন।
আজ শনিবার দ্য স্ট্রেইট টাইমস জানায়, অক্টোবর থেকে বকেয়া বেতনের দাবি জানিয়ে আসা বাংলাদেশিসহ ২৩০ জনের বেশি অভিবাসী কর্মীকে নতুন নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে তাদের কেউ কেউ বকেয়া বেতনও পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আলম মো. সাব্বির নভেম্বরের শুরুতে বেতন পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ২৩ বছর বয়সী সাব্বির বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা সবাই বেতন ও চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ পেয়েছি।’
রব্বানী ও সাব্বিরসহ কয়েকজন কর্মী স্ট্রেইটস টাইমসকে জানান, ৬ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি চাকরি মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সাক্ষাৎকার নেয়।
সেখানে সাক্ষাৎকার দেওয়া অনেকেই নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী এই কর্মীরা মূলত বাংলাদেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তারা ‘প্রসেস মেইনটেন্যান্স সলিউশনস’ ও ‘জুরং টেকনিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। বকেয়া বেতনের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে জনশক্তি মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ২৬ অক্টোবর জানায়, তারা বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছে এবং মন্ত্রণালয়কে তদন্তের কাজে সাহায্য করতে ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
দেশটির মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টারের ৬ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে বকেয়া বেতনের দাবি জানানো কর্মীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
