Homeস্পোর্টস‘আমিই সেরা’ বলে ব্যালন ডি’অর হারালেন, দাবি পাপাঁর

‘আমিই সেরা’ বলে ব্যালন ডি’অর হারালেন, দাবি পাপাঁর

মাঠে পারফরম্যান্সের ঘাটতি ছিল না। গোলের পর গোল করে নিজেকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদারও বানিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার আগে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমে যেসব কথা বলেছেন, সেগুলোই নাকি শেষ পর্যন্ত তার বিপক্ষে গেছে। অন্তত এমনটাই মনে করেন ফ্রান্সের সাবেক তারকা জঁ-পিয়ের পাপাঁ।

১৯৯১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ীর দাবি, নিজের প্রচারণা চালাতে গিয়ে উল্টো পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা নষ্ট করেছেন এমবাপে। তার মতে, ফরাসি ফরোয়ার্ডের মুখের কথাই এবার তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত সোমবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে পুরুষদের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে, আর তৃতীয় স্থান পেয়েছেন বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল।

এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম বড় দাবিদার ছিলেন এমবাপে। পুরস্কার ঘোষণার আগে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। নিজের পারফরম্যান্সের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ফ্রান্স ফুটবলকে তিনি বলেছিলেন, ‘গত মৌসুমে আমার চেয়ে ভালো কেউ ছিল না।’

এমন মন্তব্য এবং বারবার সংবাদমাধ্যমে হাজির হয়ে নিজের পক্ষে প্রচারণা চালানোই ভালোভাবে নেননি পাপাঁ।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টসের ‘রোথেন সেনফ্লাম’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এমবাপের প্রচারকৌশল তার অনেক ক্ষতি করেছে। একভাবে এটি তার ব্যক্তিত্বেরও প্রতিফলন। তার যে সামর্থ্য এবং তিনি যে ক্লাবে খেলেন, সেটি বিবেচনা করলে বিষয়টি দুঃখজনক।’

পাপাঁর মতে, ব্যালন ডি’অরের মতো পুরস্কার জেতার জন্য নিজের যোগ্যতা নিয়ে এত বেশি কথা বলার প্রয়োজন ছিল না এমবাপের। বরং মাঠের পারফরম্যান্সকেই নিজের পক্ষে কথা বলতে দেওয়া উচিত ছিল।

অবশ্য এমবাপের প্রচারণার সমালোচনা এবারই প্রথম করেননি পাপাঁ। পুরস্কার ঘোষণার আগেও তার অতিরিক্ত আত্মপ্রচারের সমালোচনা করেছিলেন সাবেক এই ফরাসি স্ট্রাইকার। সেই সময় পাপাঁ বলেছিলেন, ‘কিলিয়ানকে আমি অনেক পছন্দ করি। সে রেকর্ড গড়ার মানুষ। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে সবকিছু হয়ে যায়, আমি, আমি, আমি আর আমি। ব্যালন ডি’অর আপনি নিজে ঠিক করতে পারেন না। অন্যরাই সিদ্ধান্ত নেয়।’

এবার পুরস্কার হাতছাড়া হওয়ার পরও নিজের অবস্থান বদলাননি পাপাঁ। উল্টো এমবাপের আচরণের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী পর্তুগিজ তারকার প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, ‘এমবাপে আমাকে কিছুটা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কথা মনে করিয়ে দেয়। দলের অন্য সবাইকে যেন তার সেবায় থাকতে হতো।’

তবে এই তুলনা করতে গিয়ে এমবাপের ফুটবলীয় দক্ষতাকে ছোট করেননি পাপাঁ। গোল করার সামর্থ্যে রোনালদোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলেও মনে করেন তিনি, ‘কার্যকারিতার দিক থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যা করতেন, এমবাপে তা থেকে খুব বেশি দূরে নেই। কিন্তু নিজের পক্ষে চালানো প্রচারণাই কিছুটা তার বিপক্ষে গেছে।’

এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই যে বেশ জমজমাট ছিল, সেটিও জানা গেছে পুরস্কার ঘোষণার পর। ফ্রান্স ফুটবলের সম্পাদক ভিনসেন্ট গার্সিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কেইন ও এমবাপের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম। এমনকি ২০২৪ সালে রদ্রি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মধ্যে থাকা ৪১ পয়েন্টের ব্যবধানের চেয়েও কম ছিল এবারের ব্যবধান।

এবার দ্বিতীয় হওয়াই ব্যালন ডি’অরে এমবাপের ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান। এর আগে ২০২৩ সালে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সেরা দশে থাকলেও এখনও ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি জেতা হয়নি তার।

তবে ২৭ বছর বয়সী এই তারকার জন্য ভবিষ্যতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এমনটাও মনে করেন না পাপাঁ, ‘আমি নিশ্চিত, এমবাপে ব্যালন ডি’অর জিতবে। সেটি জেতার মতো সামর্থ্য তার আছে। এবারই জিততে হবে, নইলে আর কখনো নয়, বিষয়টি এমন ছিল না। এটি অবশ্যই দারুণ একটি সুযোগ ছিল। কিন্তু তাকে এখনও কিছুটা পথ পাড়ি দিতে হবে।’

 

RELATED ARTICLES

Most Popular