নির্দেশক ও অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদার। বাবা রামেন্দু মজুমদার ও মা ফেরদৌসী মজুমদার—দুজনেই শিল্পী হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই শিল্পের আবহেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। নিজের নাট্যদল থিয়েটারের জন্য ২০ বছর আগে ‘মুক্তি’ নাটক নির্দেশনা দেন। বাবা-মাকে নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন ‘লাভ লেটার্স’। নাটকটি বেশ প্রশংসা পেয়েছে।
মঞ্চনাটকসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন ত্রপা মজুমদার।
‘লাভ লেটার্স’ মঞ্চনাটক সম্পর্কে ত্রপা মজুমদার বলেন, ‘শুরুতে অভিনয় করার কথা ছিল প্রয়াত নাট্যজন আলী যাকের কাকার। তার খুব ইচ্ছে ছিল ফেরদৌসী মজুমদারের সঙ্গে মঞ্চে একসঙ্গে অভিনয় করার। আমিও চেয়েছিলাম, কীভাবে দুজন খ্যাতিমান শিল্পীকে একসঙ্গে মঞ্চে আনা যায়। এরপর আলী যাকের কাকার বাসায় নাটকটির পাঠ করা হয়। তখন তার মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহ ও উত্তেজনা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর তার শরীর খারাপ হতে শুরু করে। কয়েক মাস অপেক্ষা করি। পরে তিনি বললেন, “তোমরা শুরু করো”।’
‘আমরা থিয়েটারের সবাই বিশ্বাস করি, আলী যাকের কাকা সব সময় আমাদের সঙ্গে আছেন। তার শুভকামনা, আশীর্বাদ ও ভালোবাসা আমাদের সঙ্গে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নাটকে তো শুধু বসেই কাজ করতে হয়। তারপরও চেষ্টা করেছি, কীভাবে আরও কিছু করা যায়, কী যোগ করলে নাটকটি আরও ভালো হবে, দর্শকদের বেশি ভালো লাগবে। নাটকটিতে সংগীত একটি বড় বিষয়। কলকাতায় গিয়ে সেখানকার সংগীত ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে এসেছি। সব মিলিয়ে প্রযোজনাটি যতটা ছিমছাম ও সুন্দর করা যায়, সেভাবেই করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে ত্রপা মজুমদার বলেন, ‘সব সময় ভেবেছি, চরিত্র দুটি যেন ভিন্ন মনে হয়। দুজনের সমন্বয়, প্রেম ও ভালোবাসা যেন ফুটে ওঠে। এত জ্যেষ্ঠ দুজন শিল্পীর মঞ্চে অভিনয় দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে। বহু বছর মঞ্চে নাটক দেখেন না—এমন অনেক দর্শকও “লাভ লেটার্স” দেখতে এসেছেন।’
থিয়েটারের ‘মুক্তি’ নাটক নির্দেশনা দিয়ে প্রশংসা পেয়েছেন ত্রপা মজুমদার। নাটকটির শততম মঞ্চায়নও হয়েছে। এতে অভিনয় করেন ফেরদৌসী মজুমদারও।
‘মুক্তি’ নাটকটি নির্দেশনার প্রসঙ্গে ত্রপা মজুমদার বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আবদুল্লাহ আল মামুনের ইচ্ছাতেই নির্দেশনা দিয়েছি। মামুন কাকা বলতেন, “আমার পর কী হবে? তোমাদের নির্দেশনা দিতে হবে।” তার চাপেই “মুক্তি” নাটকটি নির্দেশনা দিই।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তি নাটকে চারজন শিল্পী অভিনয় করেন। মা অভিনয় করেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চারজনই অভিনয় করছেন।’
‘মুক্তি’ নাটকের প্রাপ্তি কতটুকু—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাপ্তি অনেক। এখনো দর্শকদের কাছে নাটকটির একই রকম আবেদন রয়েছে। ২০ বছর আগে এটি প্রথম মঞ্চে এনেছি। শততম মঞ্চায়নের পর বুঝেছি, দর্শকরা কতটা আগ্রহী।’
টেলিভিশনে কম নাটক করার বিষয়ে ত্রপা মজুমদার বলেন, ‘প্রথম থেকেই অবশ্য টেলিভিশন নাটকে কম কাজ করি। আমাকে খুব একটা টানত না, মঞ্চই টানত। এর অন্যতম কারণ, থিয়েটারে সন্ধ্যার পর সময় দিতে হয়। তারপরও টেলিভিশনে কাজ করেছি। আফসানা মিমি আপার পরিচালনায় “পৌষ ফাগুনের পালা”, “ডলস হাউস” ও “সাড়ে তিনতলা”—এই তিনটি বড় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছি।’
‘আফসানা মিমি আপা “পৌষ ফাগুনের পালা” করার সময় আমার শুটিং শুক্রবার ও শনিবার রাখতেন। সে কারণে কাজটি করা সহজ হতো। ওইভাবে শুটিং করতে পারলে কাজ করা সম্ভব। “পৌষ ফাগুনের পালা” নাটকে এভাবে এক বছর টানা শুটিং করেছি।’
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহিলা সমিতিতে নাটকের দলগুলোর খরচ বেড়েছে। এ বিষয়ে ত্রপা মজুমদার বলেন, ‘সারা দুনিয়ায় থিয়েটার বেঁচে আছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। থিয়েটার কখনো একা চলতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে সামান্য ভর্তুকি দিয়ে তা তুলে নেওয়া হয়। কোন যুক্তিতে তুলে নেওয়া হয়, তা বুঝি না।’
‘মহিলা সমিতির সঙ্গে বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। সরকার সুন্দর একটি উদ্যোগ নেবে, সেটাই আশা করছি। আমি মনে করি, সরকারের সঠিক জায়গায় বিষয়টি তুলে ধরতে পারলে ভর্তুকি ঠিক হয়ে যাবে। সম্ভবত বিষয়টি সঠিক জায়গায় যাচ্ছে না।’
