Homeবিনোদন‘নকিং অন ভ্যাটিকানস ডোর’

‘নকিং অন ভ্যাটিকানস ডোর’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দুই সুপরিচিত ব্যক্তি তারা। বুধবার তাদের সাক্ষাৎ হয় ভ্যাটিকান শহরে। তাদের একজন পোপ চতুর্দশ লিও, যার জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট। পশ্চিমে রবার্ট নামের সংক্ষিপ্ত রূপ বব। অন্যজন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব ডিলান।

তাদের সাক্ষাতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ধর্মগুরু ববের সঙ্গে কবি ববের সাক্ষাৎ’।

বব ডিলানের বিখ্যাত গান ‘নকিং অন হেভেনস ডোর’ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে রয়টার্স লিখেছে, ‘বব ডিলান ছয় দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন স্বর্গের দরজায় কড়া নেড়ে। বুধবার ভ্যাটিকানের দরজা খুলেছে তার জন্য। সেখানে পোপ লিওর সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেছেন এই কালজয়ী শিল্পী।’

ভ্যাটিকানে পোপের সরকারি বাসস্থান পালাজ্জো আপোস্তোলিকোয় দুজন সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পোপের পরনে ছিল তার চিরপরিচিত সাদা পোশাক এবং ডিলান পরেছিলেন কালো রঙের কোট, দস্তানা ও হুডি।

ভ্যাটিকানের কর্মকর্তা রেভারেন্ড আন্তোনিও স্পাদারো এ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন।

স্পাদারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে পোপ লিওর সঙ্গে সংগীতশিল্পী প্যাটি স্মিথের সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি।

ডিলানের গানের সঙ্গে পরিচিত শিকাগোতে জন্ম নেওয়া ৭১ বছর বয়সী পোপ। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত পোপের ভাষণ ও চিন্তাভাবনার সংকলনগ্রন্থের ভূমিকায় তিনি ডিলানের ১৯৬৩ সালের অপ্রকাশিত গান ‘গো অ্যাওয়ে ইউ বম্ব’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। গানটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী প্রতিবাদী গান।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলার সমালোচনা করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতায় ক্যাথলিক চার্চের অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

ভ্যাটিকানের সংবাদপত্রও এ সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, রবার্ট অ্যালেন জিমারম্যানকে (বব ডিলান) স্বাগত জানিয়েছেন পোপ।

১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যে জন্ম নেন এই শিল্পী। সংগীতের জগতে নাম লেখাতে নিউইয়র্কে আসেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর দুটি পরিবেশনাতেই অংশ নেন তিনি। জর্জ হ্যারিসন ও রবি শংকরের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরাও এতে অংশ নেন।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে ডিলানের গানের কথায় বারবার উঠে এসেছে যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি।

ডিলানের সবচেয়ে পরিচিত গানের অন্যতম ‘নকিং অন হেভেনস ডোর’। তিনি ১৯৭৩ সালে ওয়েস্টার্ন সিনেমা ‘প্যাট গ্যারেট অ্যান্ড বিলি দ্য কিড’-এর জন্য গানটি লিখেছিলেন। সিনেমাটিতে মৃত্যুপথযাত্রী এক আইনরক্ষকের দৃশ্যের সঙ্গে গানটি ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে রক ব্যান্ড গানস অ্যান্ড রোজেস এই গানটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। ১৯৯০ সালে তাদের সংস্করণটি প্রকাশের পর তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।

RELATED ARTICLES

Most Popular