মাত্র আড়াই বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার স্বাদ পেলেন হাসান মাহমুদ। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, তার এই পাঁচটি ফাইফার এলো পাঁচটি ভিন্ন দেশের মাটিতে। এই সংস্করণের ১৪৯ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এমন রেকর্ড নেই আর কোনো পেসারের।
হাসানকে বর্তমানে কোনো দ্বিধা ছাড়াই টেস্টে বাংলাদেশের সেরা পেসারের তকমা দেওয়া যায়। বল হাতে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। আগুন ঝরিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং করে দিচ্ছেন চূর্ণবিচূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টেও এই অসামান্য ধারা বজায় থাকল।
প্রথম ইনিংসে ২৪ ওভারে একটি মেডেনসহ ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন ডানহাতি হাসান। চলতি বছর এটি তার তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট নেওয়ার নজির। আর টেস্টে এই প্রথম দেশের মাটিতে ফাইফার নিলেন তিনি।
ম্যাচের প্রথম দিন সকালে দুটি শিকার ধরা হাসান দ্বিতীয় দিনেও তেতে ওঠেন। শুক্রবার ফের নতুন বল কাজে লাগিয়ে তিনি যোগ করেন আরও ৪ উইকেট। ফলে লাল বলের ক্রিকেটে অনন্য এক কীর্তির মালিক হয়ে গেলেন। ইতিহাসের প্রথম পেসার এবং অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার ন্যাথান লায়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে তিনি প্রথম পাঁচটি ফাইফার নিলেন পাঁচটি আলাদা দেশে।
২৭ বছর বয়সী এই পেসারের প্রথম ৫ উইকেট ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে, পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে। দ্বিতীয়টি ছিল সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টেই, ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে। তৃতীয়টির দেখা মেলে গত আগস্টে ডারউইনে, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে। আর চতুর্থটি ছিল গত মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের ইতিহাস গড়াসহ ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।
আরেকটি অর্জনে বাংলাদেশের সব পেসারকে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠে গেলেন হাসান। মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলেই তিনি এখন দেশের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়া ফাস্ট বোলার। পেছনে পড়ে গেলেন ৩৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে চারবার ইনিংসে ফাইফার পাওয়া শাহাদাত হোসেন। এছাড়া, দুবার করে ৫ উইকেট আছে নাহিদ রানা ও রবিউল ইসলামের।
এদিন প্রথম সেশনে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর নিজের প্রথম ওভারেই তোপ দাগেন হাসান। দুর্দান্ত চতুর্থ ডেলিভারিতে আমির জাঙ্গুকে ফিরিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক-থ্রু পাইয়ে দেন তিনি। ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়ে বোকা বনে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের এই সেঞ্চুরিয়ান।
চমৎকারভাবে পরের বলেই ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রোস্টন চেসকে বিদায় করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান হাসান। সেটা হতে হতেও হয়নি। নতুন ব্যাটার জশুয়া বিশপের বিপক্ষে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলেও পরে রিভিউতে পাল্টে যায় সিদ্ধান্তটি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগেছিল ব্যাটের কানায়।
পরে স্টাম্পড হয়ে হাসানেরই পঞ্চম শিকারে পরিণত হন বিশপ। তার পা উঠতে দেখে স্টাম্পের ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ানো উইকেটরক্ষক লিটন দাস দ্রুততার সঙ্গে ফেলে দেন বেলস। তারপর দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই আবার আঘাত হানেন হাসান। বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন শামার জোসেফ। ফলে টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট পান ছন্দে থাকা হাসান।
