Homeআন্তর্জাতিকইরানকে ফের ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, বললেন ‘ঘুরে দাঁড়াতে ২৫ বছর সময় লাগতে...

ইরানকে ফের ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, বললেন ‘ঘুরে দাঁড়াতে ২৫ বছর সময় লাগতে পারে’

ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে বলে নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা ‘শিগগিরই জানতে পারবেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

একইসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইরানের পুনর্গঠনে ২৫ বছর সময় লাগতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি আরও এগোতে চাই এবং বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই, যাতে এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে?’

তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আর কী ঘটবে, তা আপনারা শিগগিরই জানতে পারবেন।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করছে না।’

ট্রাম্পের হুমকির নিন্দা

ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এই প্রতিনিধি একে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন।

He’s once again threatening the annihilation of a country of 90 million people. A crime against humanity. Democrats must work urgently to end Trump’s reckless war of choice when we take back the House and the Senate. Enough is enough.

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আনসারি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) আবারও ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। আনসারির ভাষায়, ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া যুদ্ধ’ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

ইরানি নেতাদের পাল্টা বক্তব্য

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধকে ইরানের জন্য পরাজয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ঘটনা হিসেবে তুলে ধরছেন দেশটির নেতারা।

ইরানের আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাভিয়ান দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং এর মধ্য দিয়ে তেহরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এক্সে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে নাবাভিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সভ্যতা ধ্বংস, দেশটিকে বিভক্ত, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাত এবং দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে চেয়েছিল।

কিন্তু ইরানের প্রতিরোধ ও সামরিক অভিযানের কারণে অঞ্চলটির মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার দাবি, যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করেছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকেও বড় সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেন নাবাভিয়ান। তার দাবি, এই যুদ্ধ ইরানকে ‘বৈশ্বিক পরাশক্তিতে’ পরিণত করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যকে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টা উল্টো তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তেহরানে ১৯তম আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলছি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। শিগগিরই বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।’

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে দেশটির শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পীদের প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন তাইয়েব। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও যুদ্ধের বিরোধিতায় এসব প্রতিবাদ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুদ্ধের আশঙ্কায় জরুরি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আহ্বান

এদিকে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান গোলামরেজা জালালি।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতির আহ্বান ইরানের সামনে থাকা কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোরই প্রতিফলন।

RELATED ARTICLES

Most Popular