প্রথম দিনটা ছিল আমির জাঙ্গুদের, দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে দৃশ্যপট বদলে দিলেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেয়েই রীতিমতো ঝড় তুললেন বাংলাদেশের এই পেসার। টানা দুই বলে তুলে নিলেন দুই উইকেট, অল্পের জন্য হাতছাড়া হলো হ্যাটট্রিক। এরপর আরও দুই শিকার তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিন আরও ১২১ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারিয়েছে ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের হয়ে ৯০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার দুটি করে।
দিনের শুরুতে অবশ্য বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস বাংলাদেশের বোলারদের সামলে রান বাড়াচ্ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেয়েই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন হাসান।
নতুন বলে নিজের প্রথম ওভারেই পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। প্রথমে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন সেঞ্চুরিয়ান জাঙ্গুকে। ১৩৩ রানে থামে তার ইনিংস। পরের বলেই অধিনায়ক রোস্টন চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন।
পরের বলেও প্রায় পেয়ে গিয়েছিলেন উইকেট। জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউ দেন মাঠের আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে প্যাডে আঘাত করেছে। তাতে হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি হাসানের।
অন্য প্রান্তে অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান গ্রিভস। বাংলাদেশের বোলারদের সামলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি। চলতি বছরে এটি তার তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংসও।
এর মধ্যে জশুয়া বিশপকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি, যা বাংলাদেশের কোনো পেসারের সর্বোচ্চ। দেশের মাটিতে অবশ্য এটিই তার প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। এর আগে গত অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।
পেসারদের দাপটের মধ্যে স্পিনারদের প্রথম সাফল্য এনে দেন মিরাজ। তার হাওয়ায় ভাসানো বলে লাইন মিস করে বোল্ড হন গ্রিভস। ৫১ রানে থামে তার ইনিংস। প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৭ রান যোগ করে ৮ উইকেটে ৩২২ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বিরতি থেকে ফিরেই আবারও আঘাত হানেন হাসান। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম বলেই শামার জোসেফকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন ষষ্ঠ উইকেট। তার ডেলিভারি পিচে পড়ে ভেতরের দিকে ঢুকে সরাসরি আঘাত হানে মিডল ও লেগ স্টাম্পে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়ার আনন্দে মাতেন হাসান।
তবে নবম উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশের বোলারদের স্বস্তি দেননি ক্যারিবীয়রা। শেষ উইকেটে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস যোগ করেন আরও ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভেঙে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টানেন মিরাজ।
এই ইনিংসে ব্যাট হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে বড় অবদান জাঙ্গুর। তার ১৩৩ রানের পাশাপাশি কেভিন উইকহ্যাম করেন ৬১ ও গ্রিভস ৫১ রান। শেষ দিকে ওয়ারিক্যান ২৭ ও সিলস ১৫ রান করেন।
এদিকে দিনের প্রথম সেশনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। বাউন্ডারি আটকাতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালি মচকে যায় তার। যন্ত্রণায় কাতর সাদমানকে শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিতে হয়।
