মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। অথচ ভোটের হিসাবে এই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ। ১০০ বিচারকের মধ্যে ৪০ জন কেইনকে সেরা মনে করলেও ২৩ জনের প্রথম পছন্দ ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। ১৩ জন ভোট দিয়েছেন লামিনে ইয়ামালকে। এমনকি লিওনেল মেসি, রদ্রি, খভিচা কাভারাতসখেলিয়া থেকে শুরু করে ফাবিয়ান রুইজও পেয়েছেন প্রথম স্থানের ভোট।
শুক্রবার ফ্রান্স ফুটবল পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের পর জানা গেছে, কে কত পয়েন্ট পেয়েছেন এবং কোন দেশের সাংবাদিক কাকে সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
গত সোমবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে বিজয়ী হন বায়ার্ন মিউনিখের কেইন। রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপে দ্বিতীয় ও বার্সেলোনার ইয়ামাল তৃতীয় হন। তবে পুরস্কার ঘোষণার রাতে তাদের পয়েন্টের বিস্তারিত হিসাব জানা যায়নি।
শুক্রবার সেই হিসাব প্রকাশ করেছে পুরস্কারটির আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল। তাতে দেখা গেছে, কেইনের মোট পয়েন্ট ১ হাজার ৫৫। এমবাপে পেয়েছেন ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
ব্যালন ডি’অরের বর্তমান ভোট পদ্ধতিতে এটিই সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের নজির। এর আগে ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ৪১ পয়েন্টে হারিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির তৎকালীন মিডফিল্ডার রদ্রি।
এবারের ভোটে ১০০ বিচারকের মধ্যে ৪০ জন কেইনকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। এমবাপেকে প্রথম স্থানে রেখেছেন ২৩ জন। অন্যদিকে তৃতীয় হওয়া ইয়ামাল পেয়েছেন ৮৮১ পয়েন্ট। তাকে সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ১৩ জন সাংবাদিক।
চতুর্থ হওয়া রদ্রি পেয়েছেন ৭২৬ পয়েন্ট, প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন ১০টি। পঞ্চম স্থানে থাকা মেসির পয়েন্ট ৬১২। আর্জেন্টাইন তারকাকে প্রথম স্থানে রেখেছেন ছয় দেশের সাংবাদিক।
কোন দেশের সাংবাদিক কাকে ভোট দিয়েছেন
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, জাপান ও সৌদি আরবসহ ৪০ দেশের সাংবাদিকের প্রথম পছন্দ ছিলেন কেইন। বিপরীতে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডসসহ ২৩ দেশের ভোটে সবার ওপরে ছিলেন এমবাপে।
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, মেক্সিকো ও আইভরিকোস্টের সাংবাদিকেরা বিজয়ী কেইনকে নিজেদের সেরা দশেই রাখেননি। অন্যদিকে গ্রিস, স্কটল্যান্ড ও ইউক্রেনের ভোটদাতাদের সেরা দশে ছিলেন না এমবাপে।
ইয়ামালকে প্রথম স্থানে রেখেছেন মেক্সিকো, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, তুরস্কসহ ১৩ দেশের সাংবাদিক। তবে বেলারুশ, ক্যামেরুন, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসের ভোটদাতারা তাকেও নিজেদের সেরা দশে রাখেননি।
মেসি পঞ্চম হলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চীনসহ ছয় দেশের সাংবাদিকের কাছে তিনিই ছিলেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার। রদ্রিকে প্রথম স্থানে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও নাইজেরিয়াসহ ১০ দেশ।
আরও ব্যতিক্রমী ভোট এসেছে মরক্কো, গ্রিস ও ইউক্রেন থেকে। মরক্কোর সাংবাদিক নিজের দেশের আশরাফ হাকিমিকে সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গ্রিসের প্রথম পছন্দ কাভারাতসখেলিয়া, ইউক্রেনের ফাবিয়ান রুইজ।
এদিকে গত বছরের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবার সপ্তম হলেও কোনো দেশের সাংবাদিকের প্রথম পছন্দ হতে পারেননি। অষ্টম হওয়া আর্লিং হলান্ডের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
ভোট কীভাবে দেওয়া হয়
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে মনোনীত সাংবাদিক। প্রত্যেকে ৩০ মনোনীত ফুটবলার থেকে নিজেদের সেরা ১০ জনকে বেছে নেন।
প্রথম স্থানে রাখা ফুটবলার পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানে ১২, তৃতীয় স্থানে ১০। এরপর পর্যায়ক্রমে দেওয়া হয় ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট।
অর্থাৎ শুধু কতজন প্রথম স্থানে রেখেছেন, তার ওপর বিজয়ী নির্ভর করে না। সব সাংবাদিকের দেওয়া পয়েন্ট যোগ করেই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিক অবশ্য এবারের ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। কারণ, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নেই।
অবস্থান
ফুটবলার
পয়েন্ট
১
হ্যারি কেইন
১,০৫৫
২
কিলিয়ান এমবাপে
১,০২৭
৩
লামিনে ইয়ামাল
৮৮১
৪
রদ্রি
৭২৬
৫
লিওনেল মেসি
৬১২
৬
খভিচা কাভারাতসখেলিয়া
৫৪১
৭
উসমান দেম্বেলে
৪১৮
৮
আর্লিং হলান্ড
৩৭৮
৯
মাইকেল ওলিসে
২৯৬
১০
ফাবিয়ান রুইজ
২০১
১১
জুড বেলিংহাম
১০৭
১২
পাউ কুবারসি
১০১
১৩
আশরাফ হাকিমি
৬৫
১৪
ভিতিনিয়া
৫৯
১৫
ডেকলান রাইস
৫৭
১৬
ফেরান তরেস
৪৪
১৭
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র
২৬
১৮
মার্ক কুকুরেয়া
১৬
১৯
জোয়াও নেভেস
১৫
২০
উইলিয়ান পাচো
১২
২১
গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস
১১
২২
লাওতারো মার্তিনেজ
১১
২৩
নুনো মেন্দেস
৮
২৪
লুইস দিয়াস
৮
২৫
মার্কিনিওস
৭
২৬
দায়োত উপামেকানো
৫
২৭
ব্রুনো ফার্নান্দেজ
৫
২৮
হুলিয়ান কুইনোনেস
৪
২৯ (যৌথ)
সাদিও মানে
২
২৯ (যৌথ)
উইলিয়াম সালিবা
২
হ্যারি কেইন – ৪০ দেশ
ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অ্যাঙ্গোলা, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বলিভিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কানাডা, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডেনমার্ক, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, হাইতি, হাঙ্গেরি, ইরান, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, জ্যামাইকা, জাপান, কসোভো, লুক্সেমবার্গ, মন্টেনেগ্রো, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, ওমান, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, পোল্যান্ড, রাশিয়া, এল সালভাদর, সেনেগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, উরুগুয়ে ও ভেনেজুয়েলা।
কিলিয়ান এমবাপ্পে – ২৩ দেশ
ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, বাহরাইন, বেনিন, বুলগেরিয়া, ক্যামেরুন, আইভরিকোস্ট, মিসর, ইকুয়েডর, ফিনল্যান্ড, ঘানা, গিনি, ইরাক, ইতালি, মালি, ফিলিস্তিন, প্যারাগুয়ে, নেদারল্যান্ডস, কাতার, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া ও জাম্বিয়া।
লামিনে ইয়ামাল – ১৩ দেশ
আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, কেপ ভার্দে, ওয়েলস, হন্ডুরাস, জর্ডান, উত্তর মেসিডোনিয়া, মেক্সিকো, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও তুরস্ক।
রদ্রি – ১০ দেশ
নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, গুয়াতেমালা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, সার্বিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ক্রোয়েশিয়া ও আইসল্যান্ড।
লিওনেল মেসি – ৬ দেশ
আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পানামা, বেলারুশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীন।
ফাবিয়ান রুইজ – ৪ দেশ
গ্যাবন, পেরু, সিরিয়া ও ইউক্রেন।
খভিচা কাভারাতসখেলিয়া – ২ দেশ
জর্জিয়া ও গ্রিস।
মাইকেল ওলিসে – ১ দেশ
কুরাসাও।
আশরাফ হাকিমি – ১ দেশ
মরক্কো।
