প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভারতের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন বাংলাদেশি এক নারী। অবশেষে বাবার মৃত্যুর পর পেয়ে তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেন তিনি।
গতকাল বুধবার বিকেলে মেহেরপুরের মুজিবনগরে বেলতলা এলাকার ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। চোখের জলে বাবা মনিরউদ্দিন শেখকে শেষ বিদায় জানান মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন।
মনিরউদ্দিন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ছাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১০০ বছর।
প্রায় ৪৫ বছর আগে মনিরউদ্দিনের বড় মেয়ে ফেরদৌসীর বিয়ে হয় বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের ইসরাফিলের সঙ্গে। বিয়ের পর তিনি বাংলাদেশেই স্থায়ী হন।
কিন্তু কাঁটাতারের বাস্তবতায় বাবা-মা ও ভাইবোনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ফেরদৌসী। বাবাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সীমান্ত পার হওয়া আর হয়ে উঠেনি।
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শেষবারের মতো তাকে দেখার সুযোগ পান ফেরদৌসী।
মুজিবনগর বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি দল এর তত্ত্বাবধান করে। আর ভারতের পক্ষে বিএসএফের সহকারী উপপরিদর্শক সুনীল কুমারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।
