পোশাকশ্রমিকদের দাবি আড়ালে একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী এলাকায় পথসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশের সমস্যার সমাধান, শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভালো রাখতে সরকার রাত-দিন পরিশ্রম করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয়ই গত কয়েকদিন ধরে আপনারা লক্ষ করেছেন, ঢাকায় কিছু কিছু অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে কিছু সংখ্যক মানুষ। আমরা জানি, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দেওয়া আছে। আপনারা দেখেছেন, এরই মধ্যে আমরা সেই দাবি-দাওয়াগুলো বিবেচনা করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছি।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে আমাদের প্রিয় শ্রমিক ভাই-বোনেরা একটু হলেও ভালো থাকতে পারে।
‘আপনারা দেখেছেন যে কিছু সংখ্যক লোক, কিছু উচ্ছৃঙ্খলতাকারী; বর্তমান সরকার যেখানে আমরা মানুষের কর্মসংস্থানসহ শিল্পের প্রসার ঘটাতে চাচ্ছি, শ্রমিক ভাই-বোনদের এই দাবির অন্তরালে কিছু সংখ্যক লোক, একটি মহল, দেশের ওপার থেকে, সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে,’ বলেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমজীবী ভাই-বোন, কোনো শ্রমিক ভাই-বোন শিল্পের কখনো ক্ষতি করতে পারে না। আমরা পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখলাম যে এই উচ্ছৃঙ্খলতা সৃষ্টিকারী লোকগুলো বিভিন্ন কল কারখানায় যাচ্ছে এবং এই কল কারখানাগুলো ধ্বংস করছে। ভাঙচুর করছে। গাড়ি ভাঙচুর করছে, মেশিনপত্র ভাঙচুর করছে, কারখানাগুলো ভাঙচুর করছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সূচনা করেছিলেন। আজকে আমরা দেখছি, গত ৫০ বছরে যে শিল্প গড়ে উঠেছে, যে শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যে শিল্প কলকারখানাগুলোতে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনেরা কাজ করে, লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা কাজ করে, আমরা দেখেছি একটি মহল—যারা বিগত ১৫-১৬ বছরে দেশের অবস্থান, মানুষের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি; যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, এই দেশ থেকে মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জনতার অভ্যুত্থানের কারণে যারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, আজ আমরা দেখছি তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, তারা এই মিল-কারখানা ভেঙে দিতে চাইছে।’
এই মিল কারখানাগুলো দেশের সম্পদ, দেশের মানুষের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কারখানা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।
‘যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ তারা আপনাদের ভবিষ্যৎ, এই দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাঁয়তারায় তারা নেমে পড়েছে। তাদের হাতে সুযোগ ছিল, তারা বহু বছর এই দেশ জোর করে, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে দখল করে রেখেছিল। সে সময় তারা কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে নাই। সেই সময় তারা ব্যস্ত ছিল শুধু তাদের নেতাদের ভাগ্য গড়তে। আজকে যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই জন্য এই জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এই ষড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনোভাবেই সেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কারণ আজকে সময় এসেছে আমাদের দেশ গঠন করার। আজকে সময় এসেছে আমাদের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার।’
গত দুই সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়বারের মতো বাগেরহাটে গেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম যে বিএনপি যদি সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তাহলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।’
সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা থেকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্প স্থাপন করতে চায় জানিয়ে তিনি জানান, বছরের পর বছর অবহেলিত এসব এলাকার উন্নয়ন বিএনপির লক্ষ্য।
‘এই এলাকার মানুষের জীবনের ব্যবস্থা আমরা উন্নত করতে চাই এবং সেই জন্যই আমরা এই পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি। এই অঞ্চলকে আমরা আর অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে ফেলে রাখতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।
