অভিনয় দিয়ে বরাবরই দর্শকের মন জয় করেছেন সারিকা সাবাহ। সম্প্রতি ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নাচ দিয়ে মুগ্ধ করেছেন তিনি।
এই অভিজ্ঞতাটিকে রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় বলে উল্লেখ করে সারিকা জানান, এমন একটি আয়োজনে প্রথমবারের মতো পারফর্ম করার সুযোগ তার কাছে ছিল বেশ আনন্দের।
তবে নাচের সঙ্গে সারিকার সম্পর্কের শুরু আরও অনেক আগে। মাত্র চার বছর বয়সে মায়ের ইচ্ছায় ভর্তি হতে হয় শিশু একাডেমিতে। সেখানেই শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রাথমিক তালিম নেন। পরে শিল্পকলা একাডেমির একজন প্রশিক্ষকের কাছে বাসায় নাচ শেখা অব্যাহত রাখেন।
সারিকা বলেন, ‘শৈশবে টানা ছয় থেকে সাত বছর শাস্ত্রীয় নৃত্য শেখার মধ্য দিয়ে আমার নাচের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।’ সেই সময়ে শেখা নাচের মুদ্রাগুলো এখনো তার মধ্যে রয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এত বড় কোনো পুরস্কার অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম নাচ পরিবেশন করেছি। অভিজ্ঞতাটি দারুণ ছিল। প্রতিদিন রিহার্সালের সময় সহশিল্পীদের সঙ্গে আড্ডাটা পুরো সময়টাকে আরও আনন্দিত করে তুলেছিল। এখনো মিস করি সেই মুহূর্তগুলো।’
শুধু দর্শক হিসেবে নয়, একজন পারফর্মার হিসেবে পুরস্কার অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়ে আয়োজনটিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে সারিকার। বিশেষ করে এই আয়োজনটি পর্দার পেছনে কাজ করা কলাকুশলী ও প্রযুক্তিবিদদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, সেই উদ্যোগটি তার সবচেয়ে পছন্দের।
পুরস্কারের ফলাফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, নিজে যে বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন, সেখানে ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’র জন্য রুনা খানের পুরস্কার পাওয়াকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ‘একই বিভাগে আমিও মনোনয়ন পেয়েছিলাম। তবে রুনা আপুর জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত। পুরস্কারটি তার প্রাপ্য ছিল।’
সারিকা অভিনীত ‘গুলমোহর’ প্রত্যাশামতো বেশি পুরস্কার না পাওয়ায় কিছুটা মন খারাপ হয়েছিল বলেও অকপটে স্বীকার করেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের টিমের সামর্থ্য ও ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী বলেও জানান।
‘গুলমোহর’ দিয়ে ওয়েব সিরিজে অভিষেকের পর দ্বিতীয় ওটিটি ওয়েব ফিল্মের শুটিংও শেষ করেছেন তিনি। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখনো প্রজেক্টটির প্রচারণাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেয়নি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সারিকা বলেন, ‘এই ওয়েব ফিল্মের পরিচালক এবং সহশিল্পীর সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। কাজটি খুব ভালো কিছুই হবে।’
টানা দুই বছর টেলিভিশন নাটকের কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন সারিকা। এ সময় ওটিটি প্রকল্প ও বিজ্ঞাপনের কাজেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। আবারও ছোট পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আসন্ন ভ্যালেন্টাইনস ডে ও ঈদের কাজ করছেন বলেও জানান। দুটোই কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় এরই মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি ফিকশনের শুটিং শেষ করেছেন সারিকা। এসব নাটকের বেশিরভাগেই তার বিপরীতে রয়েছেন সাদ সালামি নাওভি। পাশাপাশি নতুন কয়েকজন সহশিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
নাওভির সঙ্গে সারিকার পর্দার রসায়ন দর্শকদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। দুজনেই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হওয়ার সেখান থেকেই পরিচয় ছিল।
সারিকা বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই একে অপরকে চিনি। নাওভি যখন বিনোদনজগতে কাজ শুরু করল, তখন পেশাগতভাবেও আমাদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। আমাদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক থাকায় অভিনয় ও গল্প বলার ধরন নিয়ে একে অপরকে খোলামেলা মতামত দিতে পারি। এতে দুজনেরই ইমপ্রুভমেন্ট হয়।’
