Homeশিক্ষাঅ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে শিক্ষার্থীরা

অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে কলেজের সামনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

অধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ করছেন। মধ্যরাতের পরও সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

এর আগে সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচটি বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে রাত ১০টার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সময়সীমা বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে।

অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত সময় অডিটোরিয়াম ব্যবহার করার অপরাধে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা পরে অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাদের কাছ থেকে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করেন।

কলেজের স্নাতকোত্তর প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই  শিক্ষার্থীর সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলন। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।’

সন্ধ্যায় অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা টোটালি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি।’

‘পরে ওরা আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমি একটু নমনীয় হয়ে বলেছি, যেহেতু কোনো ডিসিপ্লিন মেইনটেইন করে নাই, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ওরা লংটাইম বিদ্যুৎ অপচয় করছে, এই বিলটা ওদের কাছ থেকে আমি নেব। জরিমানার নোটিশ আমি দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ।’

তিনি বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’

RELATED ARTICLES

Most Popular