এলপিজির দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না বাড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। একইসঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, গোপনে মজুত ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান ক্যাব সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান।
এতে বলা হয়, আগামীকাল সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তন নিয়ে বিইআরসির আয়োজনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এলপিজির দাম ও চার্জ বাড়ানো হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন ভোক্তারা।
চিঠিতে আমদানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধির দাবি যাচাই করার জন্য বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেই স্থানীয় পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যয় একই অনুপাতে বাড়ে না। তাই আমদানি মূল্যবৃদ্ধির যুক্তিতে সবপর্যায়ে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই।
চিঠিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—এলপিজির মূল্য ও সংশ্লিষ্ট চার্জ না বাড়ানো; কৃত্রিম সংকট, গোপনে মজুত ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; মূল্যহার থেকে অযৌক্তিক ব্যয় ও অতিরিক্ত মুনাফা বাদ দেওয়া; আমদানি ব্যয়সহ মজুত, বোতলজাত করা ও বিতরণ চার্জের পৃথক হিসাব প্রকাশ করা; সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ ভোক্তারা যাতে এলপিজি পায় তা নিশ্চিত করা; প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত দাম ও সিলিন্ডার না পাওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা।
এ ছাড়া, গণশুনানিতে আবেদনকারীদের প্রস্তাব ও কমিশনের কারিগরি মূল্যায়নের পাশাপাশি ভোক্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ক্যাব।
