জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হিন্দু শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্নাতক (সম্মান) কোর্স সম্পন্ন হওয়া উদযাপন করতে গতকাল সোমবার রাতে ক্যাম্পাসের মন্দিরের কাছে এ আয়োজন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় পরে রাত ৯টার দিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জবি কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অজয় পাল।
ইট ব্যবহারের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন রান্নার আয়োজকরা।
এতে বলা হয়, ইটগুলো যে মন্দিরের, তা তারা জানতেন না। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় রান্নার পরিকল্পনা থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রান্নার নির্ধারিত স্থানে এক শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে তারা অন্য জায়গায় চলে যান। সেখানে আশপাশ পাওয়া ইট দিয়ে চুলা তৈরি করা হয়।
বিবৃতি আরও বলা হয়, ইটগুলো মন্দিরের জানতে পেরে তারা সেগুলো সরিয়ে নেন এবং ক্যাফেটেরিয়া থেকে আনা লোহার চুলায় রান্না শুরু করেন। এছাড়া ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আজম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে একজন সহকারী প্রক্টরকে পাঠাই।
‘শিক্ষার্থীরা প্রথমে আয়োজনের জন্য অনুমতি নেননি। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর তারা মৌখিক অনুমতি নেন’, বলেন তিনি।
প্রক্টর আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
