রাজধানী ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার জন্য নতুন একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় এসব নদীর মধ্যে বিশেষভাবে তুরাগের দূষণ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তুরাগ নদীর পরিবেশগত সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নজরদারির জন্য ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পেশ করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে এ বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ড্রোনের মাধ্যমে নদীর পাড় ধরে ফেলা বর্জ্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দূষণের মূল উৎস ও হটস্পট চিহ্নিত করবে এবং পরিবেশগত বিধিবিধান লঙ্ঘন করে নদীতে বর্জ্য ফেলা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবে।
প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত তদারকি, অভিযান, নোটিশ জারি এবং শিল্প-কারখানার বেআইনি কার্যক্রম পেলে জরিমানা করা হবে এবং কারখানাগুলোতে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন ও কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।
অন্যান্য মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে তুরাগ নদীর পাড়ে চিহ্নিত ১৭৩টি কারখানায় ইটিপির কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পানির মান তদারকির জন্য একটি রিয়েল-টাইম অনলাইন ব্যবস্থা স্থাপন এবং নৌযানে টহলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ পরিষ্কার করা।
প্রকল্প চলাকালে অন্তত ৩৬ বার পানির নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।
এ প্রকল্পের অধীনে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ৩৩৩-৪ হেল্পলাইনকে একটি সমন্বিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম হিসেবে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে এখানকার কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও কার্বন ট্রেডিংয়ের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করা হবে।
যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব চর্চা শুরু করবে, তাদের উৎসাহিত করা হবে এবং ‘গ্রিন স্টার রেটিং’ দেওয়া হবে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হবে ঢাকা মহানগর এলাকার নদী, খাল ও লেকে ফেলা কঠিন বর্জ্য এবং বাসাবাড়ি-কারখানা থেকে দূষণ কমানো। একইসঙ্গে রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য ও টেকসই করতে ড্রেনেজ বা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি করা।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বংশী নদীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদী তুরাগ অতীত থেকেই কৃষি, মৎস্য ও গৃহস্থালি কাজের জন্য পানি সরবরাহের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু, দ্রুত নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে নদীটি মারাত্মকভাবে দূষিত ও দখল হয়ে পড়েছে, যা জলজ প্রাণ ও সামগ্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এর লক্ষ্য হলো পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন নদীগুলোতে পরিবেশগত বিধিবিধান তদারকি ও প্রয়োগে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার, দূষণ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা, তুরাগে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলা বন্ধে রিয়েল-টাইম নজরদারি এবং নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে পানির মান তদারকি ব্যবস্থার উন্নতি করা।
