তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
আজ রোববার সকালে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ বোর্ড ঘোষণা করেন।
একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। বোর্ডের বাকি পাঁচ সদস্য হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, মালিকদের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, শ্রমিকদের প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার।
আরিফুল হক বলেন, ‘আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ে বোর্ড বসবে এবং এটিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড। আজকে মজুরি বোর্ড গঠন করা হলো। আশা করি, এখন তারা রাস্তা ছেড়ে কলকারখানায় যোগ দেবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল যে ঘটনাগুলো ঘটলো—১৫ থেকে ২০ জন গিয়ে ঢিল ছুড়লো। এরা শ্রমিক না।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতারা আমাদের সঙ্গে বসে আহ্বান জানালো, সরকার রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করবে, শ্রমিক ভাই-বোনরা তোমরা কলকারখানায় থাকো। কিন্তু আজ কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হলো। তাদের বলা হলো, এখনো (মজুরি বোর্ড) ঘোষণা হয়নি। অথচ তাদের নেতাদের সঙ্গে নিয়েই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আমরা আজ (বোর্ড) ঘোষণা দেবো।’
‘আমার মনে হয় এটা খুবই পরিষ্কার, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন এই কাজগুলো করছে, যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার মনে হয়, জনগণ ও শ্রমিকরা এ ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।
ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক অসন্তোষ হচ্ছে বলে মনে করছেন কি না—জানতে চাইলে শ্রমমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘অবশ্যই! এটা তো পরিষ্কার। একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে দেখা গেছে শ্রমিক সেজে সেখানে (ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনে) গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।’
কোন ছাত্র সংগঠন জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন!’
গণমাধ্যমকর্মীরা আবারও প্রশ্ন করেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার সরকারি তথ্য ছিল। আপনি কি মনে করেন এই আন্দোলনে তাদের ইন্ধন থাকতে পারে? জবাবে আরিফুল বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজকের ঘটনা যদি বিশ্লেষণ করেন, আপনারাই ভালো বুঝতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, জনগণ যদি সজাগ থাকে, তাহলে সেই উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে না।’
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, মজুরি বোর্ড ঘোষণার পর শ্রমিক অসন্তোষ থাকবে না।
