বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা হারানোর হতাশা এখনো পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার। স্পেনের বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে এবারও দুঃসংবাদ পেলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ফিফা। তবে একই ঘটনায় শাস্তি পাওয়া নাহুয়েল মলিনার জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। আপিলের পর এই ডিফেন্ডারের নিষেধাজ্ঞা তিন ম্যাচ কমানো হয়েছে। যদিও পারেদেসের শাস্তি কমাতে নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে ফিফার আপিল কমিটির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এএফএ। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দুই ফুটবলারের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তির বিষয়ে আপিল করেছিল সংস্থাটি। সেই আবেদনে আংশিক সাড়া দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মলিনার নিষেধাজ্ঞা সাত ম্যাচ থেকে কমিয়ে চার ম্যাচ করা হলেও পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়েরা যখন শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতেছিলেন, তখন দুই দলের কয়েকজন ফুটবলার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সেই ঘটনাতেই শাস্তির মুখে পড়েন পারেদেস ও মলিনা।
ফাইনাল শেষে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘুষি মারার অভিযোগে মলিনাকে প্রথমে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ফিফা। সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছিল ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে আপিলের পর তার নিষেধাজ্ঞা কমে দাঁড়িয়েছে চার ম্যাচে। জরিমানার পরিমাণও কমিয়ে ৬০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
অন্যদিকে পারেদেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আরও গুরুতর। স্পেনের উদ্যাপনের সময় এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি তার সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন এই মিডফিল্ডার। সংঘর্ষে জড়ান গাভির সঙ্গেও। এসব ঘটনার জন্য বোকা জুনিয়র্সের এই ফুটবলারকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করেছিল ফিফা।
এএফএর আপিলেও সেই শাস্তি কমেনি। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে।
তবে এখানেই হাল ছাড়ছে না আর্জেন্টিনা। পারেদেসের নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্বকাপের সময় সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগানের কারণে সংস্থাটির ওপর আরোপিত আর্থিক জরিমানার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এএফএ। বিভিন্ন ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করেছিল ফিফা।
এক বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে, ফিফার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। এরপর সেটি পর্যালোচনা করে ক্রীড়া আদালতে আপিল করা হবে। সংস্থাটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানোর মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও আইনি যুক্তি তাদের কাছে রয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ঘটনায় শাস্তি পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার আরও দুজন। মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। অন্যদিকে স্পেনের দানি ওলমোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সমপরিমাণ জরিমানা করা হয়। অবশ্য দুজনই এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করেছেন।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার তিন ম্যাচ ইতোমধ্যে পার করেছেন পারেদেস ও মলিনা। ফলে সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মলিনার আর মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাকি। বিপরীতে পারেদেসকে আরও সাত ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, যদি না ক্রীড়া আদালতে তার শাস্তি কমানো হয়।
আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস এইরেসে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবায় কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে তারা। নভেম্বরের এই দুই ম্যাচেও থাকছেন না পারেদেস। ফলে বছর শেষে তার ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাঁচটি শেষ হবে। বাকি পাঁচ ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত।
