প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায়মুক্তি অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস’ পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে এবার ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার শত্রু’ হিসেবে বিশ্বের ৩৩ ব্যক্তি ও সংগঠনকে চিহ্নিত করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)।
সংগঠনটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে। ২০০১ সাল থেকে আরএসএফ এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে। ২০১১ সালের তালিকায় বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও যুক্ত করেছিল সংগঠনটি।
সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিন্ন দেশ ও অঙ্গনের প্রতিনিধি হলেও তালিকায় থাকা প্রত্যেকেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তাদের কৌশল ভিন্ন তবে স্বাধীন কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা এবং তথ্যের অধিকার পদদলিত করার ব্যাপারে তারা একমত।
আরএসএফ জানায়, সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে এই ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো নানা কৌশল নেয়। এর মধ্যে রয়েছে—সাংবাদিকদের হত্যা, কারাবন্দী করা, অপপ্রচার চালানো এবং অনলাইনে ট্রল বাহিনী ব্যবহার করা। ব্যঙ্গাত্মক এই পুরস্কারের তালিকায় তাদের নিষ্ঠুরতা তুলে ধরা হয়েছে।
তালিকায় আছেন যারা
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সংবাদমাধ্যমের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। আরএসএফ জানায়, তার প্রশাসন সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক প্রচারণায় পরিণত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল।
তালিকায় আরও আছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, নিকারাগুয়ার ড্যানিয়েল ওর্তেগা, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী (আইডিএফ)।
গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছে আরএসএফ।
নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। সম্প্রতি দেশটির একটি ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইটের সাংবাদিকদের আটক এবং সংবাদমাধ্যম মাদা মাসর বন্ধ করার ঘটনায় তাকে দায়ী করা হয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। এ ছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে-এর মালিক ইলন মাস্ক এবং মেটা ও অ্যালফাবেটকেও তালিকাভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, আইনি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক—এই পাঁচ শ্রেণিতে তালিকাটি সাজানো হয়েছে। আরএসএফ জানায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার, সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, কারাবন্দি করা, সংবাদমাধ্যমের আর্থিক সংকট তৈরি ও আইনি অপব্যবহারের ওপর ভিত্তি করেই এই নামগুলো বাছাই করা হয়েছে।
আরএসএফের মহাপরিচালক থিবো ব্রুটিন বলেন, এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক তালিকা হলেও সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুতর।
