Homeআন্তর্জাতিক৭৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

৭৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আংশিক ফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী জোটের চেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে এখনো পিছিয়ে আছে তারা।

আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপি ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিষয়ে নিজেদের রায় দিতে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন দেশটির ভোটাররা।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু দেশটিকে কট্টর ডানপন্থার দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে একের পর এক যুদ্ধ শুরু করেছেন।

ভোট শেষে নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট উভয়েই সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। যদিও কোনো জোটেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

৭৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে যাচ্ছেন। অপরদিকে, আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৯টি এবং দেশটির কোনো পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ নয় এমন আরব দলগুলো ১৭টি আসন পেতে যাচ্ছে।

ভোট গণনা শেষ হলে এই ফল বদলেও যেতে পারে।

অন্যদিকে, বুথফেরত জরিপ বলছে, সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনীতিতে নবাগত আইজেনকোটের বিরোধী জোট এবং নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। উভয়পক্ষই প্রায় ৫১টি করে আসন পেতে পারে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি।

সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে ইসরায়েলি আরব দলগুলোর। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এসব দলের ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। বুথফেরত জরিপে ইসরায়েলি আরব দলগুলো ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি আরবরা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবেও পরিচিত। তারা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ।

ভোটের আগে নেতানিয়াহু বারবার আরব দলগুলো সম্পর্কে ইসরায়েলিদের সতর্ক করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি দেশকে ইহুদি জাতীয়তাবাদী পথে পরিচালিত করে এসেছেন, যা সবার জন্য মঙ্গলজনক হয়েছে। সংখ্যালঘু আরব জনগোষ্ঠী তার এই অর্জনকে দুর্বল করে দিতে পারে।

আংশিক ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলতে পারলে সাবেক আইডিএফ প্রধান আইজেনকোটের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।

কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট গঠনের সমীকরণ মেলাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এমনকি আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা অথবা শুক্রবার সকালের মধ্যে এই নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। মোট প্রায় ৭৩ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৫৬ লাখ ৯০ হাজার।

RELATED ARTICLES

Most Popular