Homeস্পোর্টসএকাদশে তিন স্পিনার, তাসকিন শোনালেন আরও একজন পেসারের চাহিদার কথা

একাদশে তিন স্পিনার, তাসকিন শোনালেন আরও একজন পেসারের চাহিদার কথা

সিলেট টেস্টে টস হেরে বোলিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ কাঁপিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কিন্তু তাদের পক্ষে তো আর একটানা বল করে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে স্পিনারদের আক্রমণে আনতে হয়। কিন্তু তিন স্পিনার তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান মিলে ৪২ ওভার হাত ঘুরিয়েও সাফল্য না পাওয়ায় চাপ হয়ে যায় আলগা।

বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা তাসকিন অকপটে জানান, একজন পেসারের ঘাটতি অনুভব করেছেন তারা, ‘হ্যাঁ, এক পর্যায়ে মনে হয়েছে যে, আরেকজন সিমার থাকলে হয়তো ভালো হতো। কারণ সকালের এক ঘণ্টার আর্দ্রতা… যেটা আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পেরেছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল আরেকজন সিমার থাকলে হয়তো আরেকটু লম্বা সময় বোলিং করা যেত। আমাদের বল তখন যেভাবে মুভ করছিল, আরও দুই-একটা উইকেট যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’

তিনি যোগ করেন, ‘তবে উইকেট মূলত ব্যাটিংয়ের জন্য অনেক ভালো। পরে তো সবাই দেখলেন ও বুঝতেও পারলেন যে, ব্যাটিং করা সহজ। শুরুতে আরেকজন সিমার থাকলে ভালো হতো আর কী।’

২৭ রানের মধ্যে ক্যারিবিয়ানদের ৩ উইকেট ফেলে উড়ছিল বাংলাদেশ। দুটি শিকার ধরেছিলেন তাসকিন, একটি হাসান। কিন্তু তারা আক্রমণ থেকে সরে যাওয়ার পর আর কোনো পেসার একাদশে না থাকায় নতুন বল ও উইকেটের সুবিধা আর নিতে পারেনি স্বাগতিকরা। স্পিনাররা রান আটকে রাখলেও বিপদ ঘটাতে ব্যর্থ হন। পরে অবশ্য উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্যও সহায়ক হয়ে ওঠে।

চতুর্থ উইকেটে অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গু মিলে গড়েন ১৩১ রানের কার্যকর জুটি। পুরনো বলে আক্রমণে ফিরে তাদের আলাদা করেন হাসান। ১৪৫ বলে ৬১ রান করা উইকহ্যামকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর আর কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জাঙ্গু অপরাজিত আছেন ১৭১ বলে ১১১ রানে। জাস্টিন গ্রেভস খেলছেন ৬২ বলে ৩৫ রানে। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৭৭।

আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয় আগেভাগে। ৭০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান তুলে প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের সুবাস পাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তিন পেসারকে প্রস্তুত থাকতে বলা হলেও উইকেট দেখার পর টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনায় বদল আসার কথা জানান তাসকিন, ‘আমাদের তিন ফাস্ট বোলারকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে হয়তো উইকেট দেখে শেষ মুহূর্তে এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত উইকেটে অনেকটা ঘাস ছিল। পরে যখন দেখেছে যে, একটু শুষ্ক ধরনের উইকেট, তারপর হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পিনারের।’

ম্যাচের পরের দিকে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ভেবেই একাদশে স্পিনারদের আধিক্য বলে মনে করেন তিনি, ‘দল নির্বাচন পুরোপুরিই টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। তারা আসলে উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনা করে যেটা চিন্তা করেছে, ওটা আসলে দলের সম্ভাব্য সেরাটা চিন্তা করেই করা হয়েছে। ম্যাচ মাত্র শুরু হলো, আজকে প্রথম দিন। উইকেট যে ধরনের, ম্যাচের তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে আসলে ম্যাচের ফলাফলের জন্য উপযুক্ত সময় আসবে। সেদিক থেকে এভাবে পরিকল্পনা করেছে যে, সেরা ফল বের করার ক্ষেত্রে স্পিনারদের সহায়তা লাগতে পারে।’

RELATED ARTICLES

Most Popular