প্রায় আট মাস আগে ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। এর বড় প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে।
হরমুজ প্রণালিই এখন যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানলে দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তারা প্রস্তুত। এর আগে তারা এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল।
আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ খোলার প্রস্তাব দিচ্ছি। আমাদের দাবি মানা হলে দ্রুত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা হবে এবং আলোচনা আবার শুরু হবে।’
তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তাদের দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্র মানবে কি না, তার ওপরই ‘সবকিছু নির্ভর করছে’। দাবি মানলেই শুধু পরের ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পার হতে চাইলেই হামলা চালাচ্ছে তারা। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বরে ইরান সাত দিনের একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব দেয়। কাতারের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাবে বলা হয়, দাবিগুলো মানা হলে ছয় দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের দাবিগুর মধ্যে আছে মধ্যপ্রাচ্যে সব যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শেষ করা।
রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ পায়। সেখানে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ও ওমান একটি নতুন পথ চালু করতে রাজি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এই পথ মেনে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমাতে হবে।
গত আগস্ট থেকে ইরানের ওপর নতুন করে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট তখন বলেছিলেন, ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ’ করতেই এই নিষেধাজ্ঞা।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দুটি নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলা শুরু করতে পারে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করেছে। তবে আরও দু-একটি জায়গায় হামলা চালানো বাকি আছে। এর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তিনি পিকঅ্যাক্স পর্বতের কথা বলেন। এটি একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা বলে মনে করা হলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে।
সোমবার বাঘাই আরও বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন হলে আমরা এর শক্তিশালী ও তাৎক্ষণিক জবাব দেব।’
