Homeসারাদেশবিনা খরচে ১১২ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া, বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত

বিনা খরচে ১১২ কর্মী নেবে মালয়েশিয়া, বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় ফের কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে মাসিক ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত মূল বেতনে এবং কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই ১১২ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (মালয়েশিয়া) এসডিএন বিএইচডির জন্য ‘অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ এবং ‘টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার’ পদে আবেদন আহ্বান করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিয়োগকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এর আগে জানান, সরকার বিনা খরচে নিয়োগ উদ্যোগের আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কর্মীদের প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তার এই বক্তব্যের পরই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি এলো।

আজ রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে মন্ত্রী জানান, বোয়েসেলের উদ্যোগের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কোনো প্রকার অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না।

নিয়োগের যাবতীয় খরচ মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা বহন করবেন— বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, এক টাকাও খরচ হবে না।

বোয়েসেলের মাধ্যমে কোনো প্রকার খরচ ছাড়া ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর একটি পাইলট উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার।

আজকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত বোয়েসেলের  রেজিস্ট্রেশন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনকারীদের বয়স ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। চাকরির চুক্তি প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য হবে, যা পরে নবায়নের সুযোগ থাকবে।

নির্বাচিত কর্মীরা সপ্তাহে ছয় দিন দৈনিক আট ঘণ্টা করে কাজ করবেন। কোম্পানির কাজের প্রয়োজন ও মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইম দেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা কর্মীদের বাসস্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করবেন।

অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য প্রার্থীদের কমপক্ষে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক কম্পিউটার জ্ঞান, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা এবং ওয়্যারহাউসে কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কাজে এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং ফর্কলিফট, পাওয়ার প্যালেট ট্রাক ও রিচ ট্রাক পরিচালনায় দক্ষ প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

টেকনিক্যাল স্কিল পদের জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হবে; তবে ইলেকট্রিক্যাল, ভোকেশনাল, পলিটেকনিক বা স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা থাকা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

এ ছাড়া তাদেরও ওয়্যারহাউস পরিচালনা, আইটি সরঞ্জাম, মাইক্রোসফট এক্সেল এবং ইংরেজিতে যোগাযোগের বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে।

বোয়েসেল জানিয়েছে, সফটওয়্যারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আবেদনকারীকে শর্টলিস্টেড করা হবে। এই তালিকাটি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এরপর মালয়েশিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিরা কারিগরি ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত ১১২ জন কর্মীকে নির্বাচন করবেন।

প্রত্যেক আবেদনকারী কেবল একটি পদের জন্যই আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচিত কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই কোনো টাকা দিতে হবে না এবং নিয়োগ সংক্রান্ত যে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রী আরিফুল জানান, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নিয়োগ খরচ আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে সরকার আলোচনা করছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নিয়োগের সুযোগ কেবল একটি ছোট চক্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সব লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়াই তার লক্ষ্য।

তবে তিনি স্বীকার করেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গেবর্তমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর কারণে বাংলাদেশের পক্ষে একতরফাভাবে এই নিয়োগ ব্যবস্থা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক  জানান, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনও বাকি থাকায় তাদের জন্য নিয়োগ খরচ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

তিনি জানান, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করার চূড়ান্ত ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতেই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যথাসম্ভব বেশি লাইসেন্সধারী এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular