জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরের ইট ব্যবহার করে গরুর মাংস রান্না নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর ক্যাম্পাসের ভেতর সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আজম খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক আজম খান বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। পাল্টা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এরপরও কেউ এমন কিছু করতে চাইলে আমরা দেখব। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্নাতক (সম্মান) কোর্স সম্পন্ন হওয়া উদযাপন করতে সোমবার রাতে ক্যাম্পাসের মন্দিরের কাছে এ আয়োজন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা। এ সময় চুলা বানাতে আশপাশ থেকে আনা ইট ব্যবহার করেন তারা। সেই ইটগুলো মন্দিরের ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় রাত ৯টার দিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
পরে এক বিবৃতিতে রান্নার আয়োজকেরা ইট ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রথমে ক্যাফেটেরিয়ায় রান্নার পরিকল্পনা থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার সিদ্ধান্ত হয়। ইটগুলো যে মন্দিরের, তা তাদের জানা ছিল না। পরে এটি জানতে পেরে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ক্যাফেটেরিয়া থেকে আনা লোহার চুলায় রান্না শেষ করা হয়।
এ ঘটনার পর মন্দির পরিচালনা কমিটি এবং ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আলাদা বিবৃতি দিয়ে ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তবে, পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে গরুর মাংস ভোজনের ঘোষণা দেন একদল শিক্ষার্থী। এতে অংশগ্রহণের জন্য ৭০ টাকা ফি-ও নির্ধারণ করেন আয়োজকেরা।
