Homeশিক্ষাযশোরে ভুল প্রশ্নে আইসিটি পরীক্ষা নেওয়ায় এইচএসসিতে ফেল ৩৮ শিক্ষার্থী, ‘দায় নেবে...

যশোরে ভুল প্রশ্নে আইসিটি পরীক্ষা নেওয়ায় এইচএসসিতে ফেল ৩৮ শিক্ষার্থী, ‘দায় নেবে না’ বোর্ড

চলতি বছর এইচএসসিতে যশোরের একটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় ৩৮ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল উপশহর কলেজের এই শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, যশোর উপশহর মহিলা কলেজে কেন্দ্রে গত ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার দিনের ওই ভুলের দায় নেয়নি সংশ্লিষ্ট কেউ।

তবে উপশহর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কলেজ সূত্র জানায়, যশোর উপশহর কলেজের মোট ২৭৯ শিক্ষার্থী উপশহর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। ১১ জুলাই সকাল ১০টায় আইসিটি পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্রের সংকট দেখা দেওয়ায় ৩০৩ নম্বর কক্ষে ৩৮ শিক্ষার্থীকে কিছুক্ষণ পর নতুন প্রশ্ন দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা প্রশ্নপত্র হাতে পায় পরীক্ষা শুরুর ৭-১০ মিনিট পর। পরীক্ষা শেষে তারা বুঝতে পারে, তাদের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল।

বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানালে তাৎক্ষণিক ওই কেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উপশহর কলেজ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যশোর শিক্ষা বোর্ডকে জানায়।

সেদিন বিকেলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরে কেন্দ্রসচিব ও উপশহর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি বিবেচনা করা হবে বলে বোর্ড তাদের আশ্বস্ত করেছিল।

কিন্তু, ৩১ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় উপশহর কলেজের ২৭৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪৯ জন পাস করেছে। যে ৩৮ পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্ন পেয়েছিল, তাদের সবাই ফেল করেছে বলে জানতে পারে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রশ্নপত্র দেরিতে পাওয়ায় তারা সময় কম পেয়েছিল। কিন্তু হল থেকে বেরিয়ে বুঝতে পারে, পরীক্ষাটি তারা ভুল প্রশ্নে দিয়েছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রবিউল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ফল প্রকাশের পরও উপশহর কলেজ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার ছেলের জীবনের এক বছর নষ্ট হতে যাচ্ছে।’

যোগাযোগ করা হলে উপশহর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বুধবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বোর্ডে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী বলেন, ‘ভুল প্রশ্নের জন্য বোর্ড দায়ী নয়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রসচিব ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’ 

RELATED ARTICLES

Most Popular