Homeস্পোর্টস‘মেসির মতো কাউকে আমরা আর কখনো দেখব না’

‘মেসির মতো কাউকে আমরা আর কখনো দেখব না’

লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপে ও আনহেল দি মারিয়ার মতো তারকাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ ফুটবল বিশ্বে বিরল। পিএসজির হয়ে খেলার সুবাদে এমন দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছিল আন্দের এরেরার। তবে তারকাদের সেই মেলার মাঝেও মেসিকে অন্য সবার চেয়ে উঁচুতে রাখলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তার মতে, মেসির মতো ফুটবলার বিশ্ব ফুটবলে আর দ্বিতীয়টি দেখা যাবে না।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ডের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় পিএসজিতে কাটানো বছরগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এরেরা। ফার্ডিনান্ড যখন মেসি-নেইমার-এমবাপেকে নিয়ে গড়া এক সময়ের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন এরেরা হেসে আরেকজনের নাম মনে করিয়ে দেন, ‘আপনি দি মারিয়ার কথা ভুলে গেছেন, তাই না? ওরা চারজনই দানব!’

পিএসজি ছাড়ার পর অ্যাথলেতিক বিলবাও ও বোকা জুনিয়র্সে খেলে বর্তমানে রিয়াল জারাগোজায় থিতু হওয়া এই মিডফিল্ডারের মতে, বড় তারকাদের পাশে খেলা মানে তাদেরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা নয়, বরং তাদের খেলার ধরনটা বোঝার চেষ্টা করা, ‘তাদের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক ছিল, যা আমাকে সাহায্য করেছে। আমি মনে করি, তারকাদের কীভাবে সামলাতে হয় তা বোঝার সহমর্মিতা আমার আছে। আমি জানতাম, তারা আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় বানিয়ে তুলবে।’

নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘মেসি বা নেইমারের মতো খেলোয়াড়রা চায়, আপনি তাদের পায়ে বল দেবেন এবং ঠিক তাদের পেছনে প্রস্তুত থাকবেন, যাতে প্রয়োজনে ব্যাক-পাস দিতে পারে। আপনি যদি নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বাড়তি কিছু করতে চান, তবেই ভুল করবেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝেন এবং তারা যেন খেলাটা উপভোগ করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করেন, তবে তাদের সঙ্গে খেলা খুবই সহজ।’

তবে আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসির ধ্রুপদি পারফরম্যান্স এরেরাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। ম্যাচের পাশাপাশি অনুশীলনেও মেসির অবিশ্বাস্য সামর্থ্যের ছাপ দেখেছেন তিনি, ‘আমার মনে হয়, মেসির মতো কাউকে আমরা আর কখনো দেখব না। কেবল ম্যাচে নয়— প্রতিটি অনুশীলন সেশনেও সে অসাধারণ। অনুশীলনে সে কতবার বল হারিয়েছে, আমি গুনে বলতে পারি— একদম শূন্য। এমনকি রন্দোতেও (বল দখলের অনুশীলন) সে একবারও মাঝখানে পড়েনি। এর মানে হলো, সে কখনো বলই হারায়নি।’

অনুশীলনে নেইমারের সঙ্গে মেসির নিবেদনের পার্থক্য নিয়ে এরেরা বলেন, ‘নেইমারের ক্ষেত্রে হয়তো আপনি জানতেন যে, কোনো কোনোদিন অনুশীলনে তার পুরো মনোযোগ নাও থাকতে পারে, কিন্তু ম্যাচে সে ঠিকই পারফর্ম করবে। কিন্তু লিও… প্রতিদিন, প্রতি অনুশীলনে একই রকম অবিশ্বাস্য ছিল!’

৩৯ বছর বয়সে এসেও যেভাবে মেসি প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন, তা নিয়ে সাবেক এই সতীর্থ বলেন, ‘সে এখনো আগের মতোই আছে। বিশ্বকাপেও তাকে দেখেছেন— ম্যাচে হয়তো সব সময় তাকে খেলায় দেখছেন না। কিন্তু ৭৫তম মিনিটে তাকে বল দিন, সে আপনাকে ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। ৩৯ বছর বয়সেও এটি অবিশ্বাস্য!’

RELATED ARTICLES

Most Popular