ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলছেন, মাঠে পারফরম্যান্সেও ঘাটতি নেই। অথচ নতুন চুক্তির নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তার। লিভারপুলের এমন সিদ্ধান্তে হতাশ আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে অভিমান করে ক্লাব ছাড়তেও চান না তিনি। অ্যানফিল্ডেই আরও কয়েক বছর কাটানোর ইচ্ছা তার।
তবে লিভারপুলের পরিকল্পনা আপাতত ভিন্ন। আগামী মৌসুমে মাঝমাঠ ঢেলে সাজানোর চিন্তা করছে ইংলিশ ক্লাবটি। ফলে ম্যাক অ্যালিস্তারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ আন্দোনি ইরাওলা।
২০২৩ সালে ব্রাইটন ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তখন পাঁচ বছরের চুক্তি করেছিলেন তিনি, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে। অর্থাৎ বর্তমান চুক্তির এখনও প্রায় দুই বছর বাকি। তবে এরই মধ্যে নতুন চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
লিভারপুল অবশ্য সেই আগ্রহে সাড়া দেয়নি। গত সেপ্টেম্বরে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করেছিলেন ম্যাক অ্যালিস্তার। সেদিন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার বলেছিলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি, ক্লাব এখন আমাকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার অবস্থায় নেই। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি আমাকে খুব, খুব কষ্ট দিয়েছে।’
শুধু তা-ই নয়, সতীর্থদের নতুন চুক্তি পাওয়া নিয়েও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। দমিনিক সোবোসলাই ও রায়ান গ্রাভেনবার্খ নতুন চুক্তি করলেও নিজের ক্ষেত্রে সেটি না হওয়ায় হতাশা লুকাননি ম্যাক অ্যালিস্তার। তবে হতাশ হলেও লিভারপুলের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। বরং ক্লাবের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এমনকি গত গ্রীষ্মের দলবদলে অন্য ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও অ্যানফিল্ডেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার। এবার সেই বিষয়টিই সামনে এনেছেন লিভারপুল কোচ ইরাওলা। চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ম্যাক অ্যালিস্তার যে ক্লাবে থাকতে চান, সেটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্প্যানিশ কোচ।
ইরাওলা বলেন, ‘অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের ম্যাচের আগে সেই সংবাদ সম্মেলনের কথা বলছেন? ওর পর আমিও সেখানে ছিলাম। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে এখানে থাকতে চায়।’
এরপর ম্যাক অ্যালিস্তারের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে লিভারপুল কোচ বলেন, ‘সে নিজের সেরা অবস্থায় থাকতে চায়, যাতে আমাদের সাহায্য করে যেতে পারে। এত কিছু অর্জন করা একজন ফুটবলার যখন নিজের ইচ্ছার কথা এত স্পষ্টভাবে জানায়, সেটি আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। আমি তাকে অনেক মূল্য দিই। সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’
শুধু ক্লাবের প্রতি আনুগত্য নয়, মাঠে ম্যাক অ্যালিস্টারের ফুটবলবুদ্ধিও মুগ্ধ করেছে ইরাওলাকে, ‘আমি সবসময় বলি, ম্যাক অ্যালিস্তার পুরো খেলাটাই বোঝে। শুধু নিজের পজিশনে কী করতে হবে, সেটি নয়; মাঠে সামগ্রিকভাবে কী ঘটছে, সেটিও সে বুঝতে পারে।’
সতীর্থদের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন লিভারপুল কোচ, ‘কখনো কখনো মাঠের মধ্যেই সতীর্থদের ভুল সবার আগে সে ধরিয়ে দেয়। শুধু পাশের খেলোয়াড়কে নয়, অন্যদেরও। মাঠে কী ঘটছে, তা বোঝার এই ক্ষমতা একজন ফুটবলারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ গুণ।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরু করার তাড়া নেই লিভারপুলের। বরং ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে অন্তত একজন নতুন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।
ফলে আগামী মৌসুমের আগে ম্যাক অ্যালিস্তারকে বিক্রি করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। কারণ, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ না বাড়ালে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে তার চুক্তির আর মাত্র এক বছর অবশিষ্ট থাকবে। তবে এখনই তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
ম্যাক অ্যালিস্তারের জন্য আশার জায়গা হলো, ইরাওলার অধীনে চলতি মৌসুমে নিজের সেরা ছন্দে ফিরেছেন তিনি। গত মৌসুমে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারলেও এবার লিভারপুলের মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন আর্জেন্টাইন তারকা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জোড়া গোলও করেছেন তিনি।
