অজ্ঞাত হ্যাকাররা ইউক্রেনব্যাপী জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়ার মোবাইল অ্যাপে সাইবার হামলা চালিয়েছে। তারা অ্যাপটি হ্যাক করে ইউক্রেনীয়দের ডিভাইসে সতর্কবার্তা পাঠায় যে, যেকোনো মুহূর্তে পারমাণবিক হামলা হতে পারে।
আজ সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল গভীর রাতে অ্যাপটিতে পারমাণবিক বিকিরণের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া, ইউক্রেনের রাজধানীতে রাসায়নিক হামলা এবং পথে পথে সংঘর্ষের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।
ভুয়া এসব সতর্কবার্তা ইংরেজি ও ইউক্রেনীয় ভাষায় পাঠানো হয়। তার মধ্যে ইংরেজি বার্তায় কয়েকটি বানান ভুল ছিল।
স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টার কিছু আগে এসব সতর্কবার্তা আসতে শুরু করলেও অনেক বাসিন্দা অ্যাপটি হ্যাক হয়েছে বুঝতে পেরে সেগুলো উপেক্ষা করেন। তবে অনেকে আবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
নিনা নামে এক নারী বলেন, ‘কিছুক্ষণের জন্য ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। বিছানায় শুয়ে ভাবছিলাম, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে।’
রুশ ভাষায় লেখা আরেকটি বার্তায় দাবি করা হয়, ইউক্রেনে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে যাচ্ছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করা সম্ভব।
এর আগে ক্রেমলিন তিনবার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিয়েভ অঞ্চল, দিনিপ্রো ও লভিভে হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
গতকাল এক পোস্টে ইউক্রেনের জরুরি সতর্কবার্তা অ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানায়, অনুমোদন ছাড়াই তাদের অ্যাপে তৃতীয় পক্ষ হস্তক্ষেপ করেছে। যার ফলে, ওই অ্যাপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের ‘সন্দেহজনক নোটিফিকেশনে’ থাকা কোনো লিংকে ক্লিক না করার সতর্কতাও দেওয়া হয়।
এই সাইবার হামলা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে চালিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
রাশিয়াতেও একই ধরনের সরকারি অ্যাপ আছে। মস্কো থেকে জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ওই অ্যাপের কার্যক্রম পরিচালনা করে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের দেশের অ্যাপেও হ্যাকাররা সাইবার হামলা চালিয়েছে। এর ফলে রুশ নাগরিকরাও এ ধরনের ভুয়া জরুরি সতর্কবার্তা পেয়েছেন। হ্যাকারদের একটি পোস্টে হিটকোর নামে একটি হ্যাকিং গোষ্ঠীর উল্লেখ ছিল।
রুশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল ম্যাশ জানায়, তারা হিটকোরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং ওই গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তবে গার্ডিয়ান এই তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেনে ভুয়া পারমাণবিক হামলার সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে পাঠানো হলো, যখন দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরে আবার হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। এর কয়েক ঘণ্টা আগে আংশিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই ছয়দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি চলাকালে ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় শহর ওলেশকি থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
