Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী? ট্রাম্পের জন্য এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী? ট্রাম্পের জন্য এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

এইতো বছর দুয়েক আগে অর্থাৎ, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে গেল। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যেটিক দলের কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন। তিনি আরও ২ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। তাহলে তার ২ বছরের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে আবারও নির্বাচন কেন?—এমন প্রশ্ন অনেক পাঠকের মনেই হয়তো ঘুরপাক খায়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকেই মূলত বিশ্ববাসীর নজর থাকে। এ নিয়ে সারা দুনিয়ায় বেশ হইচইও হয়। তবে দেশটির ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচনের দিকেও নজর রাখেন অনেকে। কেননা, এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আরও ‘বাড়ানো বা কমানোর’ বিষয়ে জনগণের রায় পাওয়া যায়।

তাই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ভক্ত-সমর্থকদের ট্রাম্প এমনও বলছেন, ‘ধরে নাও আমিই ব্যালট পেপারে আছি। আমাকেই ভোট দাও।’

অনেকের মনে এমনও প্রশ্ন জাগে—এই নির্বাচনেও ট্রাম্প কেন প্রচারণায় অথবা তিনি কাদের পক্ষে প্রচারণা করছেন?

এক কথায় বলা যায়—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর ‘মধ্যবর্তী নির্বাচন’ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বা ‘সংসদ’ নির্বাচন।

রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প আসলে প্রচারণা চালাচ্ছেন কংগ্রেসের সদস্য পদে দাঁড়ানো রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে।

পাঠকদের অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ‘জটিল’ মনে হয়। রাষ্ট্রপতি-শাসিত এই দেশটিতে রাষ্ট্রপতির ব্যাপক ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণের বা তার ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য আইনগতভাবে কংগ্রেস বা ‘সংসদ’কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ কথা সবাই জানেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট বা সংসদ বা আইনসভার নাম কংগ্রেস। এটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষের নাম সিনেট।

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যকে ‘হাউস সদস্য’ ও সিনেটের সদস্যকে ‘সিনেটর’ বলা হয়।

কংগ্রেসে হাউস সদস্যের সংখ্যা ৪৩৫ ও সিনেটরের সংখ্যা ১০০। দেশটির ৫০ অঙ্গরাজ্য থেকে তারা নির্বাচিত হন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ‘হাউস সদস্যের’ সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে ২ জন সিনেটর নির্বাচিত হন।

হাউস সদস্যরা নির্বাচিত হন ২ বছরের জন্য ও সিনেটররা নির্বাচিত হন ৬ বছরের জন্য।

সব হাউস সদস্যদের নির্বাচিত করতে প্রতি ২ বছরে একবার ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। একই সময়ে সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৩৩/৩৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। এবারের ভোটে ৩৫ জন সিনেটরকে নির্বাচিত করা হবে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেদিন মার্কিনিরা ভোটের মাধ্যমে তাদের কংগ্রেস সদস্যদের বেছে নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় একই সঙ্গে ‘হাউস সদস্য’ ও ‘সিনেটর’দের ফাঁকা আসনগুলোতেও নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ২ বছর পর আবার অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা নেওয়ার মাঝামাঝি সময়ে আবারও নির্বাচনের আয়োজন করা হয় বলে এর নাম ‘মিডটার্ম’ বা ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক অরাজনৈতিক ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইউএস ভোট ফাউন্ডেশন-এর তথ্য বলছে—মধ্যবর্তী নির্বাচন হচ্ছে মূলত ‘কংগ্রেস’ নামে পরিচিত আইনপরিষদের নির্বাচন।

দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যেমন ৪ বছর পরপর হয়, তেমনি মধ্যবর্তী নির্বাচন হয় ২ বছর পরপর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো মধ্যবর্তী নির্বাচনও যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে একই সময়ে আয়োজন করা হয়। এই নির্বাচনের প্রার্থিতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়ে যায় নির্বাচনের এক বছর আগেই।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেমন ২ প্রধান দল রিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তেমনি মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মূলত এই ২ প্রধান দলের প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

অনেক ছোট ছোট দলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রিপাবলিকানরা অনেক ক্ষমতাবান। রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প নিজে রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। কংগ্রেসের উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। যুক্তরাষ্ট্রে এমন পরিস্থিতিকে ‘ট্রাইফেক্টা’ বলে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য—তথা ক্ষমতার তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের জয়জয়কার।

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ১০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৫১ আসন প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ৫৩ সদস্য আছেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য ৪৫ জন।

কংগ্রেসের ৪৩৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য একটি দলকে ২১৮ আসনে জিততে হয়। বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্য আছেন ২১৮ জন। বিরোধী ডেমোক্র্যেটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ২১৪ জন। এ ছাড়া, একজন আছেন স্বতন্ত্র।

এমন বাস্তবতায়, ট্রাম্প নিজেকে দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ভেবে কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করেই একক সিদ্ধান্তে দেশ পরিচালনা করছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের মুখোমুখি হতে না চাওয়া রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, কংগ্রেসকে পাস কাটিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো নির্বাহী আদেশ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

যেমন, কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন। ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়েই ইরানে প্রায় ৮ মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এই যুদ্ধকে ‘যুদ্ধ’ না বলে ‘অভিযান’ শব্দটি ব্যবহার করছেন স্রেফ কংগ্রেসের বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলার জন্য।

এমনকি, ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রেখেছেন তার নির্বাহী আদেশে।

গত ১৭ অক্টোবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়—প্রথম ও দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প ৫০০ বারের বেশি নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন। যা তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার মোট নির্বাহী আদেশের বেশি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ওবামা মোট নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন ২৭৭ বার। বাইডেন নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন ১৬২ বার।

এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রাণপণ চেষ্টা করছে, তাদের প্রার্থীরা যেন এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিততে পারেন। তারা যেন ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র বিরুদ্ধে সরব হতে পারেন।

বিপরীতে, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প চাচ্ছেন তার দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে আবারও কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখুক।

কেননা, কংগ্রেসে ট্রাম্পবিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করতে পারবেন।

বলা বাহুল্য, ট্রাম্প চান না তার পরবর্তী দুই বছরের শাসনামলে এমন ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে।

চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারেও। বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও ধনী দেশটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সেই কারণে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে ভোটাররা ট্রাম্প ও তার দলের ওপর নাখোশ।

ট্রাম্প বারবার কংগ্রেসকে এড়িয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অনেকে গুরুত্বপূর্ণ নেতাও ট্রাম্প ও ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের নিষ্ক্রিয়তায় বিরক্ত।

এ ছাড়া, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী জোরালো অভিযান অভিবাসীদের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের অনেকের মনে ট্রাম্প তথা রিপাবলিকান পার্টি সম্পর্কে ‘নেতিবাচক’ মনোভাব বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ভোটের মাঠে সার্বিক অবস্থা ‘বেগতিক’ দেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের আকৃষ্ট করতে জনপ্রতি ৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তাদের মতে, ট্রাম্প কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে মরিয়া; কারণ, তা না হলে ডেমোক্র্যাট-সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের হাতে তার ‘বন্দি’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

সমালোচকরা আরও বলছেন, ট্রাম্প এখন আর মার্কিন তরুণদের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যতের আশা দেখাতে পারছেন না। তাই তাদের ‘উপঢৌকন’ দিয়ে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছেন, আর তা ভীষণভাবে অনৈতিক।

অনেকে এই ৫ হাজার ডলার দেওয়া ঘোষণাকে ট্রাম্পের ‘ভয়’ পেয়ে যাওয়ার লক্ষণ বলেও মন্তব্য করছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের ‘মধ্যবর্তী’ নির্বাচনকে দেশটির মহাক্ষমতাবান রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ডের ওপর দেশবাসীর ‘গণভোট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন। দেশটির রাষ্ট্রপতি মহাক্ষমতাবান হলেও তার ‘লাগাম’ থাকে কংগ্রেসের ওপর। আইনি-শাসনের দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে আইনসভার ওপর নির্ভর করে চলতে হয়, যাতে কেউ একক ক্ষমতার অধিকারী বা ‘স্বৈরাচার’ হতে না পারেন।

ট্রাম্প-সমালোচকরা বলছেন—সর্বশেষ ইরানে হামলা চালিয়ে ‘যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া’ ট্রাম্প বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করেছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা যুক্তরাষ্ট্রকেও ধাক্কা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের ‘কারিশমা’য় ধস নেমেছে। তিনি এখন আরও ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারছেন না।

ভোটের মাঠে দেখা যাচ্ছে—ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-নীতি এখন প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ব্যবহার করছেন।

গত ১৩ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়—দেশটির ৬৪ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে অপছন্দ করছেন। পছন্দ করছেন ৩৪ শতাংশ।

সংবাদমাধ্যমটি গত বছর ১৮ জুলাই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, মাত্র ২৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন গাজায় ইসরায়েল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল তা ‘ঠিক আছে’।

গত ৭ এপ্রিল পিউ গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ শতাংশ মার্কিনি তাদের প্রধান মিত্র ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন।

এবার ডেমোক্র্যাটদের অনেক প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট প্রার্থী বলছেন—ইসরায়েলের প্ররোচনায় ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প মার্কিনিদের ক্ষতি করছেন। তাই তারা বিজয়ী হলে মার্কিনিদের স্বার্থই আগে দেখবে।

বিজয়ী হলে তারা নিত্যপণ্যের দাম ও বাড়ি ভাড়া কমানো এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন—এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার জন্য ‘বেশ কাঠখড়’ পোড়াতে হচ্ছে। আবার ট্রাম্পও চান না ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তার ‘ঘুম হারাম’ করে দিক।

ভোটাররা যদি রাষ্ট্রপতির ওপর খুশি থাকেন তাহলে তার দলের সদস্যদের নির্বাচিত করে কংগ্রেসে পাঠাবেন। বিপরীতে, তারা যদি রাষ্ট্রপতির কাজে নাখোশ হন তাহলে তার ক্ষমতা সীমিত করতে তার বিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করে কংগ্রেসে পাঠাবেন।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মধ্যবর্তী নির্বাচনকে রাষ্ট্রপতির জন্য ‘গণভোট’ হিসেবে দেখে থাকেন। কেননা, এর মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রশাসনের ওপর মার্কিনিদের ‘সমর্থন’ বা ‘হতাশা’ প্রকাশ পায়।

তারা মনে করেন, এই নির্বাচন মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের সুবর্ণ সুযোগ।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ ও উচ্চকক্ষ ‘সিনেট’-এর সদস্যদের নির্বাচিত করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ২ বছর তিনি কেমন কাজ করলেন তা যাচাই এবং পরবর্তী ২ বছর তাকে কেমন কাজ করতে হবে—এর দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে যেমন বেশ হইচই হয়, তেমনি সারা দুনিয়ার নজর থাকে। হাউস ও সিনেট সদস্য হিসেবে কারা বিজয়ী হচ্ছেন তা নিয়ে আগ্রহ থাকে অনেকের।

যে দলের প্রার্থীরা বেশি সংখ্যক নির্বাচিত হবেন তারা কংগ্রেসের ওপর তত বেশি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন। কংগ্রেসে আইন তৈরির পাশাপাশি জাতীয় বাজেট, কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে যখন যিনি রাষ্ট্রপতি হন তিনি চান তার দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাক। এমনটি হলে সেই রাষ্ট্রপতি নির্বিঘ্নে পুরো ৪ বছর মেয়াদে দেশ চালাতে পারেন। কংগ্রেস সদস্যরা তার অনুগত থাকায় রাষ্ট্রপতি নিজের নির্বাহী আদেশগুলো সুবিধামতো কংগ্রেসে পাস করিয়ে নিতে পারেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular